রাজন আবেদীন রাজু,কমলগঞ্জ মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি কমলগঞ্জে প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) স্থাপনের ঘোষণা দেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টায় উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের শিববাজার সার্বজনীন শিবমন্দির পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। এ সময় পূজা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে তাঁকে ফুল ও উত্তরীয় দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে মণিপুরিদের ঐতিহ্যবাহী মৃদঙ্গ বাদন ও নৃত্য পরিবেশন করা হয়।
পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ আবহমানকাল থেকেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষের পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্য জাতীয় ঐক্য ও শক্তির মূল উৎস। এই সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।
কমলগঞ্জের উন্নয়ন ও যুবসমাজের কর্মসংস্থানের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে কমলগঞ্জে একটি আধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় তরুণ-তরুণীদের কারিগরি প্রশিক্ষণ গ্রহণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব দেবজিৎ সিংহ, মন্ত্রীর একান্ত সচিব বিজন কুমার সিংহ, কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দ্বীপ তালুকদার, সহকারী পুলিশ সুপার (শ্রীমঙ্গল সার্কেল) ওয়াহিদুজ্জামান রাজু এবং কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. কমর উদ্দিন। অনুষ্ঠানে পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট চাঁদ মোরারি সিংহসহ স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদযাপন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের তৎপরতার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সহাবস্থানের বার্তা তুলে ধরেন মন্ত্রী।