ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার কুশমাইল ইউনিয়ন পরিষদে ভিডব্লিউবি (ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট) কর্মসূচির চাল বিতরণ সরেজমিনে পরিদর্শন করে ওজনে অসংগতি এবং চালের বস্তার বেহাল অবস্থা দেখা গেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে ডিজিটাল ওজন মেশিনে চালের বস্তা পরিমাপ করে এসব অসংগতি পাওয়া যায়।
পরিদর্শনকালে দেখা যায়, কোনো বস্তায় ২১ কেজি, আবার কোনো বস্তায় ৩০ কেজি ৫০০ গ্রাম পর্যন্ত চাল রয়েছে। ভালো অবস্থায় থাকা কিছু বস্তায় চালের পরিমাণ প্রত্যাশার তুলনায় কম পাওয়া যায়। অন্যদিকে, অনেক বস্তা ছেঁড়া ও ফাটা থাকলেও সেগুলোর ওজন তুলনামূলকভাবে ঠিক ছিল। বস্তার এমন নাজুক অবস্থা দেখে উপকারভোগীদের চাল গ্রহণে অনীহা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কিছু বস্তা প্লাস্টিকের সুতলি দিয়ে সেলাই করা, যা চালের বস্তার মান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
চাল বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শনের সময় এসব অসংগতি দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শহীদুল ইসলাম, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম এবং উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাছরিন পারভীন।
স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি খাদ্যশস্য বিতরণে ওজনের অসংগতি ও বস্তার মান নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রশ্ন রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা খাদ্যগুদাম থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে খাদ্যশস্য সরবরাহ ও হাতবদলের সময় চালের পরিমাণ এবং বস্তার অবস্থা নিয়ে অসংগতি দেখা দেয়। তবে এসব ক্ষেত্রে কোথায় এবং কীভাবে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন।
জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে উপজেলা খাদ্যগুদামের কার্যক্রমের ওপর বিশেষ নজর রাখছেন। গত ৩০ জুন বার্ষিক পরিদর্শনের সময় তিনি দীর্ঘ সময় ধরে খাদ্যগুদামের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করেন। সম্প্রতি ভিডব্লিউবি কর্মসূচির চাল গাড়িতে তোলার সময়ও তিনি আকস্মিক পরিদর্শন করে কয়েকটি বস্তার ওজন পরীক্ষা করেন। ওই সময় কোনো অনিয়ম ধরা পড়েনি বলে জানা গেছে।
কিন্তু পরবর্তী সময়ে কুশমাইল ইউনিয়ন পরিষদে চাল বিতরণের সময় বস্তাভেদে ওজনে এতটা পার্থক্য দেখা দেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে, খাদ্যগুদাম থেকে উপকারভোগীদের হাতে চাল পৌঁছানোর মধ্যবর্তী কোনো পর্যায়ে ঘাটতি হচ্ছে কি না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় প্রতি কেজি ১৫ টাকা এবং খোলাবাজারে বিক্রি (ওএমএস) কর্মসূচির আওতায় প্রতি কেজি ৩০ টাকা দরে চাল বিক্রির ক্ষেত্রেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ছুটির দিনে চাল বিক্রি, নির্ধারিত দিনে বিক্রি না করা এবং ওজনে কারচুপি। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
সরকারি খাদ্যশস্য বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে খাদ্যগুদাম থেকে বিতরণকেন্দ্র পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে চালের ওজন যাচাই, বস্তার মান পরীক্ষা এবং অনিয়মের উৎস শনাক্ত করা জরুরি। বিশেষ করে ভিডব্লিউবি কর্মসূচির সুবিধাভোগী নারীরা যাতে নির্ধারিত পরিমাণ ও ভালো অবস্থার চাল পান, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।