
গত ১২ জুন (২০২৬) দিরাই পৌরসভা কার্যালয়ের নোটিশ বোর্ডে এই প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করার পর থেকেই ০৯ নং ওয়ার্ডের স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পক্ষে দায়ের করা লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রকাশিত তালিকায় ০৯ নং ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা ও প্রকৃত পেশাদার ক্ষুদ্র কৃষকদের নাম রহস্যজনকভাবে বাদ পড়েছে। অথচ, কৃষি কাজের সাথে দূরতম সম্পর্ক নেই এবং অতিবৃষ্টিতে কোনো ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হননি—এমন অন্তত ১৩ জন অকৃষক ও সচ্ছল ব্যক্তির নাম তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে।
০৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল হক (পিতা: হাসিদ উল্লাহ) এবং তাঁর আপন ভাতিজা আওয়ামিলীগ নেতা মির্জা হোসেনের নাম তালিকায় রয়েছে।
পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সোহেল মিয়া ও তাঁর ভাই সেলিম মিয়া (উভয়ের পিতা: মতি মিয়া) এবং একই কমিটির সদস্য আবু বক্কর চৌধুরী ও তাঁর ভাই সাবেক ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি আবুল বশর চৌধুরীর নাম এসেছে তালিকায়।
বিএনপি নেতা আবুল বশরের পরিবারের ৫ জন আপন চাচাতো ভাইয়ের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে দুলাল মিয়া, আলমগীর মিয়া ও জাহাঙ্গীর আলমের নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, এই তিন পরিবারেরই আনুমানিক ১৬ জন অকৃষকের নাম তালিকায় স্থান পেয়েছে।
"আমরা সম্পূর্ণভাবে কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। অতিবৃষ্টিতে আমাদের ফসল তলিয়ে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে আছি। অথচ সরকারি সহায়তার তালিকায় আমাদের নাম নেই, আছে অকৃষক ও প্রভাবশালীদের নাম। এটা আমাদের সাথে চরম অন্যায়।
তালিকায় নাম না থাকা চরম সংকটে পড়া প্রকৃত পেশাদার কৃষক মোঃ মহন মিয়া (পিতা: আব্দুর রউফ), মোঃ ফরুপ আলী (পিতা: মৃত মন্তাজ উল্লাহ), নাসির উদ্দিন (পিতা: আফতাব উদ্দিন), মোঃ কাছা মিয়া (পিতা: মৃত ইছু মিয়া), মোঃ ফারুক মিয়া (পিতা: মৃত আব্দুল আজিম), মোঃ আবুল হাসেম (পিতা: মফিজ আলী), ডলি চৌধুরী (পিতা: এখলাছ চৌধুরী), মোঃ আজিজুর রহমান (পিতা: হরমোজ মিয়া) এবং মোছাঃ আম্বিয়া বেগম (স্বামী: ছাও মিয়া) সহ আরও অনেকেই এই অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা দিরাই পৌর প্রশাসক ও বাছাই কমিটির আহ্বায়কের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন যেন, অনতিবিলম্বে মাঠ পর্যায়ে সঠিক তদন্ত ও পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে অকৃষকদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয় এবং প্রকৃত ও ক্ষুদ্র ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা হয়।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে দিরাই পৌর প্রশাসক জানান, "কৃষকদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত সাপেক্ষে কোনো অকৃষক বা প্রভাবশালীর নাম তালিকায় থাকলে তা বাদ দেওয়া হবে এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।