নিজস্ব প্রতিবেদক, সুনামগঞ্জ:
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ‘মব কালচার’ ও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন জেএ টিভির ক্রাইম রিপোর্টার জাহাঙ্গীর আলম রিফাত। গত ১২ এপ্রিল (রবিবার) দিরাই পৌর শহরের ‘সেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে’ ডা. মনি রানীর ব্যক্তিগত চেম্বারে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে স্থানীয় জামায়াত নেতা ইমরান ও তার অনুসারীদের হাতে তিনি হেনস্তার শিকার হন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়, ওই দিন একটি সংবাদের তথ্য সংগ্রহের জন্য সাংবাদিক রিফাত ডা. মনি রানীর চেম্বারে যান। সেখানে ভিডিও ধারণের একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় জামায়াত নেতা ইমরান তার প্রভাব খাটিয়ে একদল লোক জড়ো করেন। অভিযোগ রয়েছে, ইমরান সাধারণ মানুষকে উত্তেজিত করে জনরোষ তৈরির চেষ্টা করেন এবং রিফাতকে নানাভাবে লাঞ্ছিত করেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম রিফাত জানান, “ইমরান আমাকে রাজনৈতিক তকমা (সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী) লাগিয়ে উপস্থিত জনতাকে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তার ফোনালাপের কল রেকর্ডে এ ধরণের উসকানির সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। একজন সংবাদকর্মীর ওপর এমন পরিকল্পিত আক্রমণ ও মব সৃষ্টি সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পরিপন্থী।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা ইমরানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ডা. মনি রানী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, “সেদিন একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। তবে সাংবাদিক রিফাতের সাথে আমার ব্যক্তিগত ভুল বোঝাবুঝিটি সুন্দরভাবে সমাধান হয়ে গেছে। ইমরান কেন বা কী উদ্দেশ্যে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করেছেন, তা আমার জানা নেই।
জাহাঙ্গীর আলম রিফাত মনে করেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক দল। কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত অপকর্মের দায় দল নেবে না—এমন বিশ্বাস থেকে তিনি ন্যায়বিচারের জন্য জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতে তিনি সংশ্লিষ্ট মহলের সহযোগিতা আশা করেন।