
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে সরকারি বিপুল পরিমাণ পাঠ্যপুস্তক বিনা অনুমতিতে ভাঙারির দোকানে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক মাদ্রাসা দপ্তরীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত দপ্তরী শহীদুল ইসলাম দিরাই পৌর শহরের হাজী মাহমদ মিয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায় কর্মরত। এ ঘটনায় স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে দপ্তরী শহীদুল ইসলাম মাদ্রাসার একটি কক্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ বই ভ্যানগাড়িতে করে ভাঙারি দোকানে পাঠানোর সময় স্থানীয় কয়েকজন যুবক তা দেখে ফেলেন। যুবকরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করলে বিষয়টি জানাজানি হয়। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর দপ্তরী শহীদুল ইসলাম অভিযুক্ত যুবকদের টাকা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে যুবকরা তার প্রস্তাবে রাজি না হয়ে বিষয়টি এলাকাবাসীকে জানান।
পরবর্তীতে বাগবাড়ী গ্রামের লোকজন ভাঙারি ব্যবসায়ী রফিকুল মিয়ার কাছ থেকে বিক্রয়কৃত ৪টি বস্তাভর্তি প্রায় ৩শ কেজি সরকারি পাঠ্যপুস্তক উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেন। উদ্ধারকৃত বইগুলো ২০২৪ শিক্ষাবর্ষের (সূত্র অনুযায়ী ২০২৬ উল্লেখ থাকলেও সাধারণত চলতি বা আসন্ন শিক্ষাবর্ষের হয়) বলে জানা গেছে।
ভাঙারি ব্যবসায়ী রফিকুল মিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, "মাদ্রাসার দপ্তরী শহীদুল ইসলাম আমার কাছে বইগুলো বিক্রির প্রস্তাব দিলে আমি ভ্যান নিয়ে মাদ্রাসায় যাই এবং তার কাছ থেকে বইগুলো কিনি।"
অভিযুক্ত দপ্তরী শহীদুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিস্তারিত কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান এবং সরাসরি দেখা করবেন বলে জানান।
এ বিষয়ে হাজী মাহমদ মিয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল জলিল বলেন, "ঘটনাটি আমি শুনেছি। মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মহোদয়কে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এ নিয়ে আমরা জরুরি সভায় বসবো।"
দিরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি সনজীব সরকার বলেন, "সরকারি বই বিক্রির বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
এদিকে, বই চুরির এই ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন বাগবাড়ী গ্রামের বাসিন্দারা।