সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার পূর্ব বাংলাবাজারে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি তেল বিক্রির অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় পরিচালিত এ অভিযানে ‘আরিফ ফুয়েল সাপ্লাই’ নামের প্রতিষ্ঠানটিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪০ ধারায় নগদ অর্থদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে পরিচালিত এ অভিযানে বাংলাবাজারের ‘আরিফ ফুয়েল সাপ্লাই’-এর মালিক ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মতিনকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অরূপ রতন সিংহ।
জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে পূর্ব বাংলাবাজার এলাকায় নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রির অভিযোগ উঠছিল। স্থানীয় ভোক্তাদের দাবি, তারা দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও ন্যায্যমূল্যে তেল পাচ্ছিলেন না। অন্যদিকে, একটি অসাধু সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কিছু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি করে আসছিল। এমনকি প্রকৃত ড্রাইভারদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় রেখে অনেক ক্ষেত্রে বাইরে থেকে আসা লোকজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে তেল সরবরাহ করা হচ্ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এমন অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় ‘আরিফ ফুয়েল সাপ্লাই’ প্রতিষ্ঠানে তেলের মূল্য যাচাই করে দেখা যায়, সরকারি নির্ধারিত দামের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য অমিল রয়েছে। এ সময় দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেট তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হয়ে প্রতিষ্ঠানটির মালিককে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করেন।
অভিযান শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অরূপ রতন সিংহ জানান, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
এদিকে প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অনিয়ম ও অসাধু ব্যবসার বিরুদ্ধে এমন কঠোর পদক্ষেপ বাজার ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। এতে সাধারণ ক্রেতারা ন্যায্যমূল্যে প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় করতে পারবেন এবং তাদের ভোগান্তিও অনেকাংশে কমবে।
স্থানীয়দের দাবি, একদিনের অভিযান নয়—বরং নিয়মিত তদারকি ও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি। তাহলেই বাজারে স্থায়ী শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং অসাধু ব্যবসায়ীরা আর সুযোগ নিতে পারবে না। ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা রোধে প্রশাসনের এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও জোরদার রাখার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।