ময়মনসিংহ প্রতিনিধি :
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় আহলে হাদিসের ইজতেমা আয়োজনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইজতেমায় মুফতি মনির উদ্দিনের অংশগ্রহণ নিয়ে বিরোধের জেরে বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে উপজেলার ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের আন্ধারিয়াপাড়া এলাকায় আহলে হাদিসের কেন্দ্রীয় মারকাজ মসজিদের সামনে মানববন্ধন করেছেন একটি পক্ষের নেতাকর্মীরা।
মানববন্ধনে বক্তারা মুফতি মনির উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ আহলে হাদিস তাবলীগ ইসলামের ব্যানার ব্যবহার করে ইচাইল মীনা বাজার এলাকায় ইজতেমা আয়োজনের উদ্যোগ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের দাবি, মুফতি মনির উদ্দিনকে ইজতেমায় সম্পৃক্ত না করে আয়োজন পরিচালনা করতে হবে।
বক্তারা জানান, উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মুফতি মনির উদ্দিনকে বাদ দিয়ে ইজতেমা পরিচালনার বিষয়ে আয়োজকদের পরামর্শ দিয়েছিল। এ বিষয়ে আয়োজকেরা মুচলেকাও দিয়েছেন বলে তাঁরা দাবি করেন।
তবে তাঁদের অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতে মুফতি মনির উদ্দিন ইজতেমার মাঠে আসার ঘোষণা দেন এবং তাঁকে কেউ বাধা দিতে পারবে না বলে মন্তব্য করেন। এ-সংক্রান্ত একটি কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বাংলাদেশ আহলে হাদিস তাবলীগ ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটি মানববন্ধনের ঘোষণা দেয়।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, মুফতি মনির উদ্দিন ইজতেমাস্থলে এলে তাঁকে সেখানে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এ সময় তাঁরা তাঁকে প্রতিহত করার হুঁশিয়ারি দেন। বক্তব্যে তাঁকে আটক করে প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া হবে, নাকি অন্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে সে বিষয়েও উত্তেজনাপূর্ণ মন্তব্য করা হয়। এ ধরনের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আহলে হাদিস তাবলীগ ইসলামের কেন্দ্রীয় আমির ড. শেখ সাদী বিন আব্দুর রশিদ মাদানী, সহকারী আমির আলহাজ আব্দুর রহমান চৌধুরী, শায়েখ মাহবুবুর রহমান, হেড আমির আব্দুল মজিদ, আজহারুল ইসলাম, আব্দুল মালেক ও জিয়াউল হকসহ অন্যরা।
ইজতেমা আয়োজনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধের মধ্যে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন, ইজতেমার আয়োজক পক্ষ ও মুফতি মনির উদ্দিনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।