1. muftiabutahermisbah@gmail.com : Abu Taher : Abu Taher
  2. sylhetersangram2025@gmail.com : sylhetersangram :
৫৮ বছরেও বদলায়নি মহিষখলা মাদরাসার চিত্র, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান - sylhetersangram
২রা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ১৭ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| হেমন্তকাল| সোমবার| রাত ৮:১১|
Title :
মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধার প্রতিবাদে যশোরে মানববন্ধন ও গণসমাবেশ জামালগঞ্জে সার-বীজ মনিটরিং সভা অনুষ্ঠিত মোকাদ্দেস হোসেন বাবু স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের পয়েন্ট পর্ব শেষ, সেমিফাইনালে চার দল বীরগঞ্জে পলাশবাড়ী চাষী ক্লাবের ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন রাসায়নিক দিয়ে কদবেল পাকানোর দায়ে ফল ব্যবসায়ীকে জরিমানা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ রাজিব পরিবহন বন্ধের দাবিতে সংবাদ প্রকাশের জেরে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার মামলা, মৌলভীবাজারে ক্ষোভ সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এড. নুরুল ইসলাম নুরুলের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদ জেলা বিএনিপর সংবাদ সম্মেলন শাবিপ্রবিতে এইচআরডিএস’র প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন সু‌বিধা ব‌ঞ্চিতদের পা‌শে সেনাবাহিনী 

৫৮ বছরেও বদলায়নি মহিষখলা মাদরাসার চিত্র, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২৬,
  • 47 Time View

 

আল আমিন
মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:

প্রতিষ্ঠার ৫৮ বছর পেরিয়ে গেলেও সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার মহিষখলা দাখিল মাদরাসার অবকাঠামোগত সংকট কাটেনি। জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের নিচেই চলছে পাঠদান। ভবনের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ফাটল। ছাদের ঢালাইয়ের অংশ খসে পড়ছে। এতে আতঙ্কের মধ্যে পাঠদান ও শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ইতোমধ্যে ভবনের দুটি শ্রেণিকক্ষ তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে।

১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত মহিষখলা দাখিল মাদরাসাটি স্থানীয়ভাবে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। বর্তমানে এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৫৫০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও সেই তুলনায় বাড়েনি শ্রেণিকক্ষের সংখ্যা। ফলে একদিকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, অন্যদিকে শ্রেণিকক্ষ সংকট-দুই সমস্যায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম।

সরেজমিনে মাদরাসায় গিয়ে দেখা যায়, একতলা পুরোনো ভবনটির বিভিন্ন অংশে ফাটল রয়েছে। কোথাও কোথাও দেয়ালের পলেস্তারা উঠে গেছে। ছাদের ভেতরের ঢালাইয়ের অংশও খসে পড়ছে। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় দুটি শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার না করে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। ফলে শ্রেণিকক্ষের সংকট আরও প্রকট হয়েছে।

মাদরাসা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, একতলা ভবনটি ১৯৯৫ সালে সরকারি ফ্যাসিলিটি বিভাগের মাধ্যমে নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর দীর্ঘ সময় পার হলেও ভবনটির বড় ধরনের সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ হয়নি। দীর্ঘদিনের পুরোনো ভবনটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যেই বাধ্য হয়ে ভবনের অন্যান্য কক্ষে পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

শুধু ভবনের সংকটই নয়, শিক্ষক সংকটও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে। বর্তমানে মাদরাসায় ১৩ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও ছয়টি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। এ ছাড়া তৃতীয় শ্রেণির একজন এবং চতুর্থ শ্রেণির চারজন কর্মচারী কর্মরত আছেন। শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় নিয়মিত পাঠদানেও চাপ তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

শ্রেণিকক্ষের সংকট মেটাতে মাদরাসা প্রাঙ্গণে ছোট তিনটি টিনশেড ঘরে পাঠদান চালানো হচ্ছে। এসব কক্ষে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে ক্লাস করতে হচ্ছে। এতে স্বাভাবিক ও নিরাপদ পরিবেশে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বর্ষা ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় টিনশেড কক্ষগুলোতে পাঠদান আরও কঠিন হয়ে পড়ে বলে জানান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

মাদরাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পুরোনো ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। বিশেষ করে ছাদের ঢালাই খসে পড়ায় যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করা না হলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শিক্ষা কার্যক্রম দুটিই ঝুঁকির মধ্যে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাদরাসার সহকারী মৌলভী মোঃ জয়নাল আবেদীন শেখ বলেন, ৫৮ বছর ধরে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে আসা এ মাদরাসার অবকাঠামোগত সংকট দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের পরিবর্তে নতুন ভবন নির্মাণ এবং পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করা হলে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি পাঠদানের মানও বাড়বে।

মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ভবনটি বর্তমানে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। নিরাপত্তার কারণে দুটি শ্রেণিকক্ষ তালাবদ্ধ রাখা হয়েছে। জায়গার অভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত নতুন ভবন প্রয়োজন।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. কামরুজ্জামান কালবেলাকে জানান, মাদরাসাটিতে একটি টিনশেড ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে ঠিকাদার কাজটি এখনও শুরু না করায় সেটি এখনো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। চারতলা ভিত্তির ওপর একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। তবে ভবনটির ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ নিজ উদ্যোগে দ্বিতীয় তলায় একটি টিনশেড শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করেছে। এ ছাড়া মাদরাসা প্রকল্পের আওতায় একটিগ বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য চাহিদা পাঠানো হয়েছে। কিন্তু মাদরাসা ক্যাম্পাসে মসজিদ ও এতিমখানা থাকায় পর্যাপ্ত জায়গার সংকট রয়েছে। ফলে নতুন করে শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের ক্ষেত্রেও জায়গার সমস্যা রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। স্বত্ব © ২০২৬ সিলেটের সংগ্রাম