
ছাতকের বৃহত্তর ঝিগলীতে যুবকের মৃত্যু নিয়ে ধুম্রজাল
আবদুর রহমান জামী:শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় ইমাম হোসেন নামের বিশ বছরের এক যুবকের মৃত্যু নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। ইমাম হোসেন উপজেলার ১৩নং ভাতগাঁও ইউনিয়নের বৃহত্তর ঝিগলী (সোলেমানপুর) গ্রামের সিএনজি চালক আমির উদ্দিনের ছেলে। ২৪ মে, রবিবার দিবাগত রাতে বিষক্রিয়া হলে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় একদিন পর ২৬ মে, মঙ্গলবার মৃত্যুবরণ করেন ইমাম হোসেন। অসুস্থাবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তির পর ইমাম হোসেনকে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে মর্মে ছাতক থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন নিহতের চাচা মো. খলিল উদ্দিন।
অভিযোগ পত্রে খলিল উদ্দিন উল্লেখ করেন, রবিবার রাত ৯টায় ঝিগলী পয়েন্টের শফিকের দোকানে যান ইমাম। সেখানে তাকে একটি সফ্ট ড্রিংক (টাইগার) খেতে দেওয়া হয়। টাইগারে বিষ মেশানো ছিলো বলে অভিযোগ পত্রে দাবি করেন তিনি। অভিযোগে আরো দাবি করা হয়, টাইগার সেবনের পরই অসুস্থ হয়ে পড়েন ইমাম হোসেন। এরপর তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তবে, স্থানীয় শাপলাগঞ্জ বাজার ও ঝিগলী পয়েন্টের বেশ কিছু দোকানী ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন ভিন্ন কথা। তারা জানিয়েছেন, নিহত ইমাম হোসেন তার বাবার সাথে ঝগড়া করে বিষ পান করেন। এতে গুরুতর আহত হয় সে এবং পরবর্তীতে মৃত্যুবরণ করে।
বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন, ঘটনার দিন রাতে ইমাম হোসেনকে বহন করে নিয়ে যাওয়া নোহা গাড়ী চালক মুহিত বলেন, ঘটনার দিন রাতে ইমামের বাবা আমার বাড়িতে এসে তার ছেলে বিষ খেয়েছে জানিয়ে তাকে নিয়ে সিলেটে যাওয়ার অনুরোধ করেন। আমি তাকে নিয়ে সিলেটের ওসমানিতে ভর্তি করে তার পর বাড়িতে চলে আসি। এখন শুনি তারা হত্যা মামলার অভিযোগ করেছেন। এলাকার সবাই জানে সে বিষ খেয়েছে।
সোলেমানপুর গ্রামের প্রবীণ মুরব্বি ও ইমাম হোসেনের প্রতিবেশী আবুল লেইচ বলেন, আমরা জানি সে বিষ খেয়ে মারা গেছে। বিষ খাওয়ার পর তার বাবা তাকে নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছে। এখন তারা এই ঘটনা নিয়ে খেলানেলা শুরু করছে। দুনিয়াতে ধর্ম বলতে আর কিছু থাকলো না। সত্তোরোর্ধ হুশিয়ার আলী বলেন, আমরা জানি সে বিষ খেয়ে মারা গেছে। তার বাবার সাথে ঝগড়া করার পর সে বিষ খেয়েছে। এটা আমাদের গ্রামের সবাই জানে। তার বিবি বাজারে এসে হেটে হেটে সবাইকে এ কথা বলেছেন এবং দোয়া চেয়েছেন। ছাদ মিয়া নামের আরেকজন বলেন, সে তার বাড়িতে বিষ খেয়েছে।
ঝিগলী পয়েন্টের ব্যবসায়ী পারভেজ হোসাইন বলেন, যে অভিযোগ আমাদের দোকানের উপর করেছেন, এ ধরণের কোনো ঘটনা আমার দোকানে ঘটেনি। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। সবাই অবগত আছেন। গত ৫/৬ মাসের মধ্যে আমরা তাকে দেখিনি। আমরা শোনেছি, সে তার বাবার সাথে ঝগড়া করে বিষ খেয়েছে। মূলত, তারা আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নষ্ট করার উদ্দেশ্যে ও পূর্ব শত্রুতার জেরেই তারা এই অভিযোগ করেছেন।
ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল হামিদ বলেন, আমি প্রথমেই শুনেছি সে বিষ খেয়েছে। আমাকে পুলিশ জিজ্ঞেস করেছিলেন, আমি যা জেনেছি তা বলেছি। মূলত এটি একটি আত্মহত্যা।
এ ঘটনার বিষয়ে জানতে ও বক্তব্য নিতে ঝিগলী সোলেমানপুর গ্রামে নিহত ইমাম হোসেনের বাড়িতে যান এই প্রতিবেদক। বাড়িতে কয়েকজন আত্মীয়-স্বজন ও ইমাম হোসেনের ছোট ভাইয়ের দেখা পাওয়া গেলেও তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অনেক অনুরোধ করলেও তারা কোনো কথা বলেননি। এমনকি বাড়িরে কোনো ভিডিও ধারণ করতেও দেননি।
অভিযোগকারী ও নিহতের চাচা খলিল উদ্দিন বলেন, ইমাম অসুস্থতার খবর পাওয়ার পরে তাকে হাসপাতালে যাওয়ার পথে আমি খবর পেয়েছি।
আমরা খবর পেয়েছি টাইগার খাওয়ানোর পরই তার এমন দশা হয়েছে। তার খারাপ অবস্থা দেখে আমি থানায় আগে অভিযোগ করেছি। এখন নিজেদের জান বাঁচাতে কিছু মানুষ বলছেন যে, সে তার বাবার সাথে ঝগড়া করে বিষ খেয়েছে। এটি মিথ্যা কথা। এর আগেও আমার ভাইকে (ইমামের বাবাকে) তারা কুপিয়েছে।
জাউয়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আবদুল কবির বলেছেন, এ বিষয়ে আমি একটি অভিযোগ পেয়েছি। গতকাল ওই এলাকায় গিয়ে তদন্ত করেও এসেছি। তদন্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।