
আবু তাহের মিসবাহ, সাব এডিটর :
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষিপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত দৌলতপুর জামে মসজিদে পবিত্র কুরআনের শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে ও দ্বীনি চেতনাকে আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে ১৮তম বার্ষিক তাফসিরুল কুরআন মাহফিল সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুর ২টা থেকে শুরু হয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
মাহফিলে দৌলতপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। পুরো এলাকা জুড়ে সৃষ্টি হয় এক পবিত্র ও ঈমানী পরিবেশ। মাহফিলস্থলে নারী-পুরুষসহ সব বয়সী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দৌলতপুর জামে মসজিদের সভাপতি আবুল হোসেন। এছাড়া গ্রামের বিশিষ্ট মুরুব্বি ও সমাজপতি সিদ্দিক আলী, আব্দুল নুর, আব্দুল আজীজসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
মাহফিলের প্রধান অতিথি হিসেবে তাফসিরুল কুরআন পেশ করেন সাতক্ষীরা থেকে আগত অধ্যাপক মাওলানা মনিরুল ইসলাম বিলালী। তিনি কুরআনের আলোকে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং ইসলামী মূল্যবোধে জীবন পরিচালনার জন্য উপস্থিত মুসল্লিদের প্রতি আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা রাখেন উপাধ্যক্ষ আলহাজ্ব মাওলানা আব্দুস সাত্তার, মাওলানা বদিউজ্জামান মুরাদ ও ক্বারী নুর আলম। এছাড়াও এলাকার অন্যান্য ওলামা-মাশায়েখগণ দ্বীনি আলোচনা ও নসিহত পেশ করেন।
মাহফিলে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লক্ষিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রভাষক জহিরুল ইসলাম জহির,বিশিষ্ট সমাজসেবক ও দানবীর একরামুল হক এবং আলহাজ্ব নুর আলম,তরুন উদ্দোক্তা আনোয়ার হোসেন।
তাঁরা বলেন, এ ধরনের দ্বীনি আয়োজন সমাজে শান্তি, সৌহার্দ্য ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এলাকার যুব সমাজের পক্ষ থেকেও মাহফিলটি ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে মানবিক কর্মী এবং দৌলতপুর বন্ধন যিব সংগঠন এর সভাপতি মোফাজ্জল হাসান বলেন, “বর্তমান সময়ে যুব সমাজ নানা অপসংস্কৃতির দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এ ধরনের তাফসির মাহফিল আমাদের ঈমান জাগ্রত করে এবং সঠিক পথে চলার অনুপ্রেরণা দেয়।”
মাজফিলের সার্বিক সহযোগিতা ও ব্যবস্থাপনায় ছিলেন দৌলতপুর বন্ধন যুব সংগঠনের সভাপতি মোফাজ্জল হাসান, সহ সভাপতি আমজাদ হোসাইন, কোষাধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম, ক্রীড়া সম্পাদক আশিক হোসাইন, প্রচার সম্পাদক তাজুল ইসলাম
মাহফিলের শেষ পর্বে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। আয়োজক কমিটি জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের দ্বীনি আয়োজন অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।