
ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ
রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম, রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কথা জানিয়েছেন ময়মনসিংহ শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফুলবাড়ীয়া পৌর যুবদলের সহসভাপতি মো. গোলাম কিবরিয়া মজনু। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বিরোধী রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় থাকার দাবি করে তিনি বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামের দিনগুলোতে অনেক সময় বাড়িতে ঘুমানোরও সুযোগ পাননি। রাজনৈতিক কর্মসূচি ও সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনে দিনের পর দিন রাজপথে থাকতে হয়েছে তাঁকে।
গত ৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম খান নাসিমের অনুমোদনে শ্রমিক দলের অন্তর্ভুক্ত ময়মনসিংহ জেলা মিশুক, বেবি ট্যাক্সি, ট্যাক্সিক্যাব ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন রেজি. নং ময়মন-০১৯-এর সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে তাঁর দায়িত্বের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
গোলাম কিবরিয়া মজনু দীর্ঘদিন ধরে ফুলবাড়ীয়া পৌর যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। একই সঙ্গে শ্রমিক সংগঠনের কর্মকাণ্ডেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, পরিবহন খাতের শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা এবং সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকার মধ্য দিয়ে তিনি নিজেকে শ্রমিক রাজনীতিতে যুক্ত রেখেছেন।
আন্দোলন-সংগ্রামের দিনগুলোতে রাজপথে থাকার দাবি
গোলাম কিবরিয়া মজনুর রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উঠে এসেছে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলের আন্দোলন-সংগ্রামের সময়গুলো। তাঁর দাবি, ওই সময়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হয়েছে। কখনো কখনো নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বাড়িতে রাত কাটানোর সুযোগও পাননি। দিন-রাত রাজপথে থেকে দলীয় কর্মসূচি পালন এবং সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে হয়েছে।
রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হয়েছে বলেও তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা উল্লেখ করেছেন। তবে এসব অভিজ্ঞতা তাঁকে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে সরিয়ে নেয়নি বলে তাঁরা দাবি করেন।
শ্রমিক সংগঠনে নতুন দায়িত্ব
শ্রমিক দলের অন্তর্ভুক্ত ময়মনসিংহ জেলা মিশুক, বেবি ট্যাক্সি, ট্যাক্সিক্যাব ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে অনুমোদন পাওয়ায় তাঁর ওপর সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা ও শ্রমিকদের সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্ব আরও বাড়বে। পরিবহন খাতের শ্রমিকেরা কর্মক্ষেত্রে নানা সমস্যা, জীবিকা নির্বাহের চাপ এবং পেশাগত অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হন। এসব বিষয়ে সংগঠনের কার্যক্রম জোরদার করা শ্রমিক নেতাদের অন্যতম দায়িত্ব।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা, সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
গোলাম কিবরিয়া মজনুর এই দায়িত্বপ্রাপ্তিকে কেন্দ্র করে তাঁর রাজনৈতিক ও শ্রমিক সংগঠনের কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি শ্রমিক সংগঠনের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পারবেন—এমন প্রত্যাশা করছেন তাঁর সহকর্মীরা।
তবে নতুন দায়িত্বে তাঁর পরিকল্পনা, শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে অগ্রাধিকার এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচি সম্পর্কে তাঁর সরাসরি বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা যেতে পারে।ন