
দিনাজপুর জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামের সাধারণ পরিবারের ছেলে সোহেল রানা কিশোরবেলা থেকেই সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কাজ করার একধরনের তাগিদ অনুভব করতেন, পরে তাই হয়ে উঠে তার অভ্যাস। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়েই তিনি বেছে নেন আইন পেশা। বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে তিনি শুধু মামলার যুক্তি নয়, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে হয়ে উঠেন এক অনন্য কণ্ঠস্বর। আর তাই তৃণমূল মানুষের কাছে তিনি ‘গরিবের অ্যাডভোকেট’ নামে পরিচিত।
অ্যাডভোকেট সোহেল রানা তার দীর্ঘ পেশাগত জীবনে অসহায় ও দরিদ্র মানুষদের হয়ে বিনাপারিশ্রমিকে আইনি লড়াই করেছেন। পাশাপাশি বিনামূল্যে আইনি সহায়তা প্রদান করে আসছেন।
সমাজের প্রান্তিক ও বঞ্চিত মানুষের ন্যায়বিচারের অধিকার নিশ্চিত করাই তার আইনচর্চার মূল লক্ষ্য। তার এই নিরলস সেবার কারণে তৃণমূল মানুষ তাকে শুধু আইনজীবী নয়, বরং আশার প্রতীক হিসেবেও দেখেন। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থেকে জনসাধারণের অধিকার রক্ষা, আইনি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছেন।
এ প্রসঙ্গে সোহেল রানার মতামত হচ্ছে, ‘এটা আমার বেদনা বা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য দায়িত্ব।
ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী হিসেবে অ্যাডভোকেট সোহেল রানা স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদার জাতীয়তাবাদী দর্শনকে আদর্শ হিসেবে ধারণ করেন। দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো পুনর্গঠনের আন্দোলনে তিনি নিজেকে একজন যোদ্ধা মনে করেন। নিয়মিতভাবে মানবাধিকার, গুম ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা নিয়ে প্রবন্ধ ও মতামত প্রকাশ করে আসছেন, যা শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
২০১৫ সালে এক ভয়াবহ অধ্যায়ের মুখোমুখি হন সোহেল রানা। ঢাকার উত্তরা থেকে তাকে তুলে নিয়ে টানা ৬ মাস ৩ দিন গুম করে রাখা হয়। সেই সময়ের যন্ত্রনাদায়ক অভিজ্ঞতা আজও তাকে তাড়া করে বেড়ায়।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন ‘সেখানে আমাকে মানুষের ন্যূনতম মর্যাদা ও বেঁচে থাকার মৌলিক শর্তগুলো থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছিল। প্রতিটি দিন ছিল মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই। সেই ভয়াল অভিজ্ঞতা আজও আমার স্মৃতিতে ভর করে আছে।’ তবে এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তাকে ভেঙে দেয়নি, বরং দৃঢ় করেছে। তিনি গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠার লড়াই শুরু করেন।
ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে গত ১৪ আগস্ট ২০২৪ তারিখে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নং-২২-এ সর্বপ্রথম পিটিশন মামলা (নং-০৩/২০২৪, ধারা: ৩৪৪/৩৬৪/৩৬৮/৩৪/১০৯ দণ্ডবিধি ১৮৬০) দায়ের করেন এবং বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন আছে। পাশাপাশি, গুমকে সরাসরি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে আইনে যুক্ত করার দাবিতে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
গুম ইস্যুতে এ ধরনের মামলা ছিল নজিরবিহীন, যা আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। জাতিসংঘ, বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তিনি ধারাবাহিকভাবে বক্তব্য রেখেছেন। পাশাপাশি, গুম ইস্যুতে সর্বপ্রথম গুম কমিশন গঠনের দাবিতে আওয়াজ তোলেন এবং আইন মন্ত্রণালয়ের নিকট সর্বপ্রথম লিখিতভাবে আবেদন করেন গুমের জন্য আলাদা আইন প্রণয়ন ও গুমকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করার জন্য। অ্যাডভোকেট সোহেল রানার এই অগ্রণী উদ্যোগ দেশের গুমবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে।