1. sylhetersangram2025@gmail.com : sylhetersangram :
দিরাই–শাল্লা আসনে দুই প্রজন্মের মুখোমুখি লড়াই: ইতিহাসের নাছির উদ্দিন চৌধুরী বনাম তরুণ আইনজীবী শিশির মনির - sylhetersangram
৫ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ২২শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ| বসন্তকাল| রবিবার| দুপুর ১২:৫৪|
Title :
ছাতকে ওমানপ্রবাসীর স্ত্রীর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা সুনামগঞ্জে মিথ্যা অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া মাহবুব হোসেন হিমেলের জামিন মঞ্জুর প্রবাসী বিএনপি নেতার মায়ের করুণ মৃত্যু : সুনামগঞ্জের ডাক্তারের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ শান্তিগঞ্জে নূর ইসলামের একক রাজত্ব: সরকারি মাটি লুট ও খাস জমি বরাদ্দের নামে হরিলুট তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দোয়ারাবাজারে অতর্কিত হামলা, স্বামী-স্ত্রী গুরুতর আহত সুবিপ্রবিতে দ্বিতীয় ধাপে ‘বি’ ইউনিটের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন ছাতক দোয়ারায় হাওর রক্ষা বাঁধে পাউবো ও প্রশাসনের অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিবাদে গণ-সমাবেশ  দোয়ারাবাজারে আল-মদিনা ইসলামি সোসাইটির উদ্যোগে গ্রামের রাস্তা সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন  দুর্নীতির বাঁধে ডুবছে হাওর; পাউবো কর্মকর্তাদের অপসারণ দাবি ​ সুনামগঞ্জে সশস্ত্র মহড়া, মামলার বাদীকে হত্যার হুমকি—চরম উদ্বেগ

দিরাই–শাল্লা আসনে দুই প্রজন্মের মুখোমুখি লড়াই: ইতিহাসের নাছির উদ্দিন চৌধুরী বনাম তরুণ আইনজীবী শিশির মনির

পাবেল হাসান
  • Update Time : শুক্রবার, ডিসেম্বর ১২, ২০২৫,
  • 831 Time View

দিরাই থেকে (পাবেল হাসান)

 

সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই–শাল্লা) আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনা দিন দিন বাড়ছে। হাওরপাড়ের ঐতিহ্যবাহী এই আসনে মাঠ পর্যায়ে সবচেয়ে আলোচিত দুই নাম—বিএনপি’র প্রবীণ নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী, এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

এলাকার রাজনৈতিক ইতিহাসে একজন দীর্ঘদিনের জননন্দিত নেতা, আরেকজন শিক্ষিত, পেশাদার তরুণ আইনজীবী—এই দুই প্রজন্মের নেতৃত্বের মুখোমুখি লড়াই এখন দিরাই–শাল্লায় প্রধান আলোচনার বিষয়।

দিরাই–শাল্লার রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নাছির উদ্দিন চৌধুরীর নাম একটি আলাদা মর্যাদা বহন করে। দশকজুড়ে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষার আন্দোলন, ভাসান পানির মাছ ধরার দাবি, এবং দিনমজুর–রিকশা শ্রমিকদের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে অপ্রতিদ্বন্দ্বী জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু ছাত্র রাজনীতির মধ্য দিয়ে হলেও তিনি দ্রুতই তৃণমূল মানুষের ভরসার প্রতীক হয়ে ওঠেন।

ছাত্রজীবনেই তার নেতৃত্বগুণ ও প্রতিবাদী মনোভাব প্রকাশ পায়। তৎকালীন পাকিস্তানি শাসক আইয়ুব খান সিলেট সফরে এলে সিলেট সার্কিট হাউসের সামনে প্রথম যে ছাত্রনেতা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করেন, জনরোষের মুখোমুখি দাঁড়ান এবং হামলার মতো উত্তপ্ত পরিস্থিতির নেতৃত্ব দেন—তিনি ছিলেন নাছির উদ্দিন চৌধুরী। সেই সময়কার রাজনৈতিক ইতিহাসে ঘটনাটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। অনেকেই বলছেন, ওই সাহসী অবস্থানই তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তি তৈরি করে।

 

১৯৬৬: সিলেট এমসি কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি ১৯৬৮: সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস ১৯৭০: মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি ১৯৮৫ ও ১৯৮৯: দিরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ১৯৯৬: সুনামগঞ্জ-২ থেকে সংসদ সদস্য বর্তমানে তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

দিরাই–শাল্লার মানুষের দাবি—নাছির উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্ব শুধু রাজনৈতিক ছিল না; মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের সংকটে, শ্রমজীবী মানুষের দুঃসময়গুলোতে তিনি যেভাবে পাশে থেকেছেন, তা আজও এলাকাবাসীর স্মৃতিতে গেঁথে আছে।

অশীতিপর বয়স, শারীরিক দুর্বলতা ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করেও তিনি এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তাঁর সমর্থকরা মনে করেন, “নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সম্মান দিরাই–শাল্লার সম্মান। তাকে অসম্মান করা মানে পুরো এলাকার মানুষকে অসম্মান করা।”

 

এদিকে প্রবীণ নেতার বিপরীতে দাঁড়িয়ে থাকা প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির দিরাই–শাল্লার নতুন প্রজন্মের রাজনীতির প্রতিনিধি। তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন সিনিয়র আইনজীবী, একই সঙ্গে ‘ল’ ল্যাব (Law Lab)’ নামে একটি আইনি চেম্বারের প্রধান।

সুনামগঞ্জ জুবলি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএল.বি (অনার্স) ও এলএল.এম ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৮১ সালের ১ আগস্ট শাল্লা উপজেলার আটঁগাও ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামে জন্ম নেওয়া শিশির মনির শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি রাজনৈতিক সংগঠনে যুক্ত ছিলেন। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সেক্রেটারি এবং বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর আইনজীবী অঙ্গনের নেতৃত্বে রয়েছেন।

 

গত কয়েক বছরে তিনি নিয়মিত এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে যুক্ত থেকেছেন। বিশেষত আইনি পরামর্শ প্রদান, সামাজিক সংকটে সহযোগিতা এবং তরুণদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি—এসব কার্যক্রম তাঁকে দ্রুত জনপ্রিয় করে তুলেছে। বিশেষ করে কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণ ভোটাররা বলছেন—

“দিরাই–শাল্লার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও আধুনিক প্রশাসনিক কাঠামো—এসবের জন্য শিশির মনিরই সময়ের দাবি।”

 

নির্বাচন যত এগোচ্ছে, দিরাই বাজার থেকে শাল্লার হাওরপাড় পর্যন্ত দুই প্রার্থীর প্রচারণা ততটাই জোরদার হচ্ছে।

প্রবীণ নেতা নাছির উদ্দিন চৌধুরী প্রতিদিন সীমিত সময় নিয়ে জনসংযোগ করছেন, অপরদিকে শিশির মনিরের প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে তরুণদের বিশাল উপস্থিতি ও আধুনিক প্রচারব্যবস্থার ব্যবহার।

 

দিরাই বাজারের চায়ের দোকানে এক প্রবীণ ভোটার বলেন—

“নাছির উদ্দিন চৌধুরী শুধু নেতা নন, দিরাই–শাল্লার ইতিহাস। উনার অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই।”

আরেকজন বলেন— “তিনি উদার, পরোপকারী। আমাদের দুঃসময়ে যে পাশে ছিল, তাকে ভুলে যাওয়ার উপায় নেই।”

শিশির মনিরের পক্ষে তরুণরা বলছেন— “এলাকায় শিক্ষিত নেতৃত্ব দরকার। আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়।”

“নৈতিক, শিক্ষিত এবং অভিজ্ঞ আইনজীবী হিসেবে শিশির মনির দিরাই–শাল্লার সমস্যাগুলো আইনগত ও প্রশাসনিকভাবে সমাধান করতে পারবেন।”

সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে খণ্ডিত ভিডিও আকারে নাছির উদ্দিন চৌধুরীর একটি বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

নাছির উদ্দিনের সমর্থকদের দাবি—বক্তব্যটি বিকৃতভাবে প্রচার করে তাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে।

অন্যদিকে শিশির মনির প্রকাশ্যে কখনোই সিনিয়র নেতার বিরুদ্ধে অসম্মানজনক মন্তব্য না করায় স্থানীয়দের মধ্যে তিনি প্রশংসিত হচ্ছেন।

এক স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন—

“এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিযোগিতা শুধু রাজনৈতিক আদর্শের নয়; এটি সম্মান, শিষ্টাচার ও দুই প্রজন্মের নেতাদের মূল্যবোধের লড়াই।”

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। স্বত্ব © ২০২৫ সিলেটের সংগ্রাম