
দিরাইয়ের জগদল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী প্রবাসী রুবেল আহমদের নান্দনিক ইশতেহার ঘোষণা: পরিবর্তনের অঙ্গীকার
নিজস্ব প্রতিবেদক, দিরাই (সুনামগঞ্জ):
আসন্ন ৭নং জগদল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে এক নতুন সম্ভাবনার আলো নিয়ে হাজির হয়েছেন সমাজসেবক, সদালাপী ও প্রবাসী মোঃ রুবেল আহমদ। উপজেলার রাজনগর গ্রামের মৃত মোঃ মাহমদ আলীর সুযোগ্য সন্তান রুবেল আহমদ দীর্ঘ সময় প্রবাসে থাকলেও নাড়ীর টানে বারবার ছুটে এসেছেন নিজ জন্মভূমিতে। এবার তিনি সুদূর প্রবাসের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য পেছনে ফেলে প্রিয় জগদল ইউনিয়নবাসীর অধিকার নিশ্চিত করতে এবং সততার সাথে খেদমত করতে সরাসরি নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন।
সম্প্রতি ইউনিয়নবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি তাঁর দূরদর্শী ও কল্যাণমুখী ‘স্মার্ট ইউনিয়ন’ গঠনের রূপরেখা সম্বলিত নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। “আমি আপনাদের দিতে এসেছি, শুধু ভালোবাসা নিতে এসেছি”—এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে তিনি জগদল ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, দুর্নীতিমুক্ত ও স্বাবলম্বী মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
নির্বাচিত হলে সর্বাগ্রে দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক একটি ‘স্মার্ট ইউনিয়ন পরিষদ’ গঠন করা হবে।
ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট জনগণের সামনে উন্মুক্তভাবে ঘোষণা করা হবে এবং ইউপি ওয়েবসাইটে তা প্রচার করা হবে। তথ্য অধিকার আইনের শতভাগ বাস্তবায়নসহ পরিষদের সামনে দৃশ্যমান ‘সিটিজেন চার্টার’ স্থাপন করা হবে, যেন যেকোনো নাগরিক পরিষদের সেবা ও খরচের হিসাব সহজে জানতে পারেন।
সরকারি বিভিন্ন ভাতা, অনুদান এবং কৃষি প্রণোদনা কোনো প্রকার স্বজনপ্রীতি ছাড়া শতভাগ সততার সাথে প্রকৃত প্রাপকদের মাঝে বণ্টন নিশ্চিত করা হবে।
জন্ম সনদ, মৃত্যু সনদ ও চারিত্রিক সনদ তুলতে সাধারণ মানুষকে আর কোনো দীর্ঘ বিড়ম্বনার শিকার হতে হবে না।
ভৌগোলিক দূরত্ব বিবেচনা করে নাগরিকদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের জন্য ঐ এলাকাতেই একটি বিশেষ কমিউনিটি অফিস স্থাপন করা হবে। একইভাবে ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডবাসীর জন্য কলিয়ার কাপন বাজারে পৃথক কমিউনিটি অফিস করা হবে। আর ৪, ৫, ৬ ও ৭ নং ওয়ার্ডের নাগরিকবৃন্দ সরাসরি মূল ইউনিয়ন অফিস থেকে সব সুবিধা পাবেন।
দরিদ্র, অসহায় এবং প্রতিবন্ধী পরিবারগুলোকে হোল্ডিং ট্যাক্সের (গৃহ কর) আওতামুক্ত রাখা হবে। পাশাপাশি ইউনিয়নের প্রতিটি পরিবারকে শতভাগ স্যানিটেশনের আওতায় আনা হবে। ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাঘাটগুলো আইডিভুক্ত (ID) করে এলজিইডি (LGED)-র মাধ্যমে দ্রুত বাস্তবায়নের আপ্রাণ চেষ্টা করা হবে।
বেকারত্ব দূরীকরণে যুবসমাজকে ফ্রিল্যান্সিং ও আইটি সেক্টরে দক্ষ করার বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক একাডেমি গড়ে তোলা হবে।
প্রতিটি স্কুল ও মাদ্রাসার পাঠদানের মান তদারকি করা হবে এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষামুখী করতে বিশেষ উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি নেওয়া হবে। পাশাপাশি মসজিদ, ঈদগাহ ও মন্দির সংস্কার ও নির্মাণে সরকারি ফান্ড এনে যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।
“আমি স্কুল জীবন থেকেই সাধারণ মানুষের সাথে থেকেছি। জগদলের রাজনীতিতে আমি বরাবরই সক্রিয় ছিলাম। আমি কথা দিচ্ছি, নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে, নিজের শতভাগ বিলিয়ে দিয়ে জনগণের কল্যাণে কাজ করব। আপনাদের অধিকার সুনিশ্চিত করাই আমার একমাত্র লক্ষ্য। আমি আপনাদের কাছে শুধু সমর্থন, সার্বিক সহযোগিতা এবং পবিত্র দোয়া প্রত্যাশা করছি।”
জগদল ইউনিয়নের সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করছেন, মোঃ রুবেল আহমদের মতো একজন সৎ, প্রবাসী ও উচ্চশিক্ষিত তরুণ নেতৃত্ব নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের অবহেলিত সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব এবং জগদল ইউনিয়ন সত্যিই একটি আধুনিক ও আদর্শ ইউনিয়নে রূপান্তর হবে।