
দিরাই প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় জয় মহাপাত্র (২১) নামের এক যুবকের মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, পাওনা ৫০০ টাকা নিয়ে পার্শ্ববর্তী দোকানদারের মারধর ও মানসিক অপমানের পর বিষপান করে তার মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জয়। তিনি উপজেলার ভাঙাডহর গ্রামের লিটন মহাপাত্রের ছেলে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাঙাডহর গ্রামের জয় মহাপাত্র বুরহানপুর গ্রামের মৃত মদরিছ মিয়ার ছেলে আমিরুল ইসলামের কাছ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকায় একটি মোবাইল ফোন কিনেছিলেন। চুক্তি অনুযায়ী, তিনি নগদ দুই হাজার টাকা পরিশোধ করেন এবং বাকি টাকা প্রতি সপ্তাহে ৫০০ টাকা করে দেওয়ার কথা ছিল। নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করলেও শেষ কিস্তির ৫০০ টাকা দিতে দেরি হয়।
নিহতের পিসতুতো ভাই অয়ন দাস বলেন, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জয় টাকা দিতে আমিরুল ইসলামের দোকানে গেলে সেখানে তাকে মারধর করা হয় এবং মোবাইলটি কেড়ে নেওয়া হয়। এ সময় অপমানজনক কথাবার্তাও বলা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। পরে জয় ওই দোকান থেকেই ইঁদুর মারার বিষ কিনে বাড়ি ফিরে যায়।
অয়ন দাস আরও জানান, রাত সাড়ে সাতটার দিকে জয় বিষ খাওয়ার কথা স্বীকার করেন। তখন দ্রুত তাকে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মনি রানী তালুকদার বলেন, রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তাকে সিলেটে রেফার করা হয়।
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে দোকানদার আমিরুল ইসলাম বলেন, জয়ের কাছে তার মোবাইল বাবদ ২ হাজার ৫০০ টাকা ও ফ্লেক্সিলোডের ৩০০ টাকা বাকি ছিল। টাকা না দেওয়ায় তিনি শুধু মোবাইল ফেরত দিতে বলেছিলেন। ইঁদুর মারার বিষ দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে জয়ের মা শেলী মহাপাত্র অভিযোগ করে বলেন, ‘আমিরুল ইসলামের অপমানজনক আচরন ও প্ররোচনায় আমার ছেলের মৃত্যু হয়েছে। সকালে টাকা চাইলে, না পেয়ে আমার ছেলের কাছ থেকে মোবাইল রেখে দেয়। পরে সিম চাইতে গেলে সন্ধ্যায় আসতে বলে। সন্ধ্যায় গেলে ঘরের দরজা আটকিয়ে আমার ছেলেকে চর-থাপ্পড় মারে এবং কি খাওয়াইয়ে দেয় বলে জানায় আমার ছেলে। সেখান থেকে বাড়িতে এসে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মুখ থেকে লালা নিঃসরণ হয়। আমার ছেলে ওই দোকান থেকেই বিষ খেয়ে এসেছে।’
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।