
দিরাই বাসস্ট্যান্ডে অবাধে চলছে দেহ ব্যবসা, অদৃশ্য শক্তির ছত্রছায়ায় প্রশাসন নীরব?
দিরাই থেকে, মোঃ বদরুজ্জামান বদরুল
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা সদরের প্রাণকেন্দ্র বাসস্ট্যান্ড এলাকা। প্রতিদিন হাজারো যাত্রী, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীর যাতায়াতের এই ব্যস্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দোকান ও বসতঘরের আড়ালে অবৈধ দেহ ব্যবসা চলার তথ্য মিলেছে। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য, যা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।
অনুসন্ধানে যা পাওয়া গেছে
একাধিক স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য অনুযায়ী, বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন কয়েকটি চা-দোকান, ভাড়া দেওয়া কক্ষ ও টিনশেড ঘর দিনের বেলায় স্বাভাবিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মতো থাকলেও সন্ধ্যার পর সেগুলো রূপ নেয় গোপন দেহ ব্যবসার আস্তানায়। নির্দিষ্ট সময় পর বহিরাগত নারীদের আগমন, নির্দিষ্ট যুবকদের মাধ্যমে ‘খদ্দের’ পৌঁছে দেওয়া এবং দ্রুত কক্ষ বদলের ঘটনা নিয়মিত ঘটে।
অনুসন্ধানে জানা যায়,
প্রতিটি কক্ষে নির্দিষ্ট হারে অর্থ আদায় করা হয়
স্থানীয় কিছু দালাল পুরো কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে
নতুন কেউ প্রশ্ন তুললে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়
প্রশাসনের নীরবতা রহস্যজনক
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো—এই এলাকা থানা, বাজার ও প্রশাসনিক স্থাপনার খুব কাছেই অবস্থিত। তবুও দিনের পর দিন এমন অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও দৃশ্যমান কোনো অভিযান বা কঠোর ব্যবস্থা চোখে পড়েনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,
এটা নতুন কিছু না। সবাই জানে। কিন্তু হঠাৎ অভিযান হয় না কেন—এই প্রশ্নের উত্তর কেউ দেয় না।
কার ইশারায় চলছে এই কারবার?
অনুসন্ধানে সরাসরি কারও নাম পাওয়া না গেলেও স্থানীয়দের ধারণা,
প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়া
নিয়মিত ‘ম্যানেজ’ ব্যবস্থাপনা
দায়িত্বশীলদের দায়িত্বে অবহেলা
এই তিনের সমন্বয়েই অবৈধ দেহ ব্যবসা নির্বিঘ্নে চলছে।
যুব সমাজ ধ্বংসের মুখে
এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্কুল-কলেজ পড়ুয়া অনেক তরুণ এই পরিবেশে সহজেই নৈতিক অবক্ষয়ের শিকার হচ্ছে। বাসস্ট্যান্ড এলাকাকে কেন্দ্র করে মাদক, ছিনতাই ও বিভিন্ন অপরাধও বাড়ছে বলে দাবি তাদের।
একজন শিক্ষক বলেন,
“এভাবে প্রকাশ্যে এসব চলতে থাকলে সমাজের ভিত্তিই নষ্ট হয়ে যাবে।”
প্রশাসনের বক্তব্য নেই
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সুস্পষ্ট জবাব পাওয়া যায়নি। যা জনমনে আরও সন্দেহ ও ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি
অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত
নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি
দালাল ও আশ্রয়দাতাদের আইনের আওতায় আনা
বাসস্ট্যান্ড এলাকাকে অপরাধমুক্ত করা
এখন দিরাইবাসীর একটাই প্রশ্ন—
সবকিছু জেনেও প্রশাসন কেন নীরব? এই নীরবতার পেছনে কার স্বার্থ লুকিয়ে আছে ?