
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় খাসিয়ামারা নদীতে অবৈধ ড্রেজার মেশিন স্থাপন ও বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী যুব সমাজের ওপর হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় একজন আসামিকে আটক করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন আলোচিত এ ঘটনায় অবশেষে আইনি পদক্ষেপে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
দোয়ারাবাজার থানা সূত্রে জানা গেছে, আটককৃত আসামি লক্ষিপুর ইউনিয়নের বক্তারপুর গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর হোসেনের ছেলে আলী আকবর (১৯)। তিনি মামলার এজাহারভুক্ত প্রথম আসামি।
জানা যায় গত বছর খাসিয়ামারা নদী জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ইজারা দেওয়া হয়। ইজারা প্রাপ্তির পর সংশ্লিষ্ট ইজারাদাররা নির্ধারিত শর্ত ভঙ্গ করে নদীতে অবৈধ ড্রেজার মেশিন স্থাপন করে বালু উত্তোলন শুরু করে। এতে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ব্যাহত হয় এবং নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে ব্যাপক ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দেয়।
বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে লক্ষিপুর ইউনিয়নের বক্তারপুর, খাসিয়ামারা ও আশপাশের গ্রামের মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাতে শুরু করেন। স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, অবৈধ ড্রেজার চালু থাকলে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গ্রামীণ অবকাঠামো মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।
এই পরিস্থিতিতে লক্ষিপুর ইউনিয়নের সচেতন যুব সমাজ ‘খাসিয়ামারা নদী রক্ষা ও ড্রেজার অপসারণ আন্দোলন’ শুরু করে। আন্দোলনের খবর দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেন গত ২৭ আগস্ট সরেজমিনে খাসিয়ামারা নদী পরিদর্শনে যান। পরিদর্শন শেষে তিনি তদন্ত পরিচালনা করেন এবং অবৈধ ড্রেজার কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধের নির্দেশ দেন।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলা প্রশাসকের স্পষ্ট নির্দেশ অমান্য করে ইজারাদার পক্ষের কিছু দালাল চক্র পরদিন থেকেই পুনরায় ড্রেজার মেশিন চালু করে। এতে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, ২৯ আগস্ট লক্ষিপুর ইউনিয়নের ড্রেজার অপসারণ আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ইব্রাহীম খলিলের নেতৃত্বে স্থানীয় যুব সমাজ শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাতে গেলে দালাল গোষ্ঠীর সদস্যরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন লক্ষিপুর ইউনিয়ন শাখার যুগ্ম আহবায়ক ইব্রাহীম খলিলসহ কয়েকজন যুবক গুরুতরভাবে আহত হন।
হামলার ঘটনায় হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন লক্ষিপুর ইউনিয়ন শাখার যুগ্ম আহবায়ক ইব্রাহীম খলিল বাদী হয়ে দোয়ারাবাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় চারজনকে আসামি করা হয়। তবে ঘটনার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়।
অবশেষে গত ৯ জানুয়ারি ২০২৬ দোয়ারাবাজার থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার প্রথম এজাহারভুক্ত আসামি আলী আকবর (১৯)-কে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।”
এদিকে একজন আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় স্থানীয় জনগণ ও আন্দোলনকারীরা আংশিক স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তারা দ্রুত মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন।