1. sylhetersangram2025@gmail.com : sylhetersangram :
দোয়ারাবাজারে হকনগর পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির প্রায় ৭০ লাখ টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ - sylhetersangram
১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ৩১শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| শরৎকাল| মঙ্গলবার| রাত ১১:৩৭|
Title :
শান্তিগঞ্জে প্রাথমিক শিক্ষা পদক, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পুরস্কৃত জাফলংয়ে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মৃত্যুদাবির চেক প্রদান ও দোয়া মাহফিল  সিলেটে এসে শাহজালাল (র.) মাজার জিয়ারত করলেন রাষ্ট্রপতি শাবিপ্রবির ফেনী স্টুডেন্টস এসোসিয়েশনের নতুন কমিটি ঘোষণা, নেতৃত্বে মাহী-ইউনুস শাবিপ্রবির চোখ ফিল্ম সোসাইটির নতুন কমিটি গঠন নেতৃত্বে জিম-অমিয় শাবিপ্রবিতে শান্তর ক্যানভাস শীর্ষক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত শিশুদের নিয়ে ইমপ্যাক্ট৩৬০-এর ‘আমার শরীর, আমার নিরাপত্তা’ কর্মসূচি নেতা নয়, সেবক হয়ে জগদল ইউনিয়নবাসীর সেবা করতে চান যুক্তরাজ্য প্রবাসী রুবেল আহমেদ ক্যাম্পাসে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পদক্ষেপ চেয়ে শাবিপ্রবি ছাত্রদলের স্মারকলিপি লন্ডন থেকে দেশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছেন জগদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রুবেল আহমেদ

দোয়ারাবাজারে হকনগর পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির প্রায় ৭০ লাখ টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, মার্চ ২, ২০২৬,
  • 242 Time View

সাব এডিটর আবু তাহের মিসবাহ :

সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের অন্তর্গত হকনগর এলাকায় প্রায় ৭০ লাখ টাকার একটি পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পটি হকনগর পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির অধীনে বাস্তবায়নাধীন। সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে কাজের মান নিয়ে একাধিক অসঙ্গতি চোখে পড়ে, যা নিয়ে এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরে প্রায় ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দে একটি ড্রেন নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাশতলা, হকনগরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার শতাধিক কৃষক পরিবার সরাসরি উপকৃত হওয়ার কথা ছিল। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও সেচ সমস্যার সমাধান হবে—এমন আশায় কৃষকরা প্রকল্পটি ঘিরে আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু কাজ শুরুর কিছুদিনের মধ্যেই অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে।

পরিদর্শনে দেখা যায়, ড্রেনের বিভিন্ন অংশে আরসিসি ঢালাই ফেটে গেছে। যেখানে ২ ইঞ্চি কার্নিশ থাকার কথা, সেখানে রড বের হয়ে থাকতে দেখা যায়। একাধিক স্থানে ঢালাইয়ের কাজ সঠিকভাবে কমপ্যাক্ট না করায় ফাঁপা অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আরসিসি ঢালাইয়ের সময় ভাইব্রেটর মেশিন ব্যবহার করা হয়নি, ফলে কংক্রিটের ভেতরে ফাঁকা অংশ থেকে যাচ্ছে এবং কাজ শেষ হওয়ার আগেই ফাটল দেখা দিচ্ছে।

এছাড়া ড্রেনের ওয়াটার লেভেল সঠিকভাবে নির্ধারণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। কোথাও কোথাও সেন্টার ফিলিং ও টেম্পারিং যথাযথভাবে করা হয়নি। বেইস ঢালাই মানসম্মত নয় বলে দাবি স্থানীয় সচেতন মহলের। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত মানের বালুর পরিবর্তে নিম্নমানের বিট বালু ব্যবহার করা হয়েছে। পর্যাপ্ত রড ব্যবহার না করা এবং দেয়ালে প্রয়োজনীয় সাপোর্ট না দেওয়ার কারণেই কাজ চলমান অবস্থাতেই ফাটল ধরছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

উক্ত পানি উন্নয়ন সমিতির সদস্য শাহজাহান মোল্লা বলেন,“শুরু থেকেই ঢালাইয়ের সময় ঠিকমতো পানি দেওয়া হয়নি। রড ও সিমেন্টের ব্যবহারও ছিল অপর্যাপ্ত। ওয়াটার লেভেলও ঠিক রাখা হয়নি।”

সমিতির আরেক সদস্য ফজলুর রহমান বলেন,

“যেখানে ২.৫ ইঞ্চি সাইড কভার থাকার কথা, সেখানে অনেক জায়গায় রড বের হয়ে আছে। কাভারিং ঠিকমতো হয়নি।”

কলোনি গ্রামের রাজমিস্ত্রী আব্দুস সামাদ বলেন,

“আমি নিজেও রাজমিস্ত্রী। ইঞ্জিনিয়ারিং মানদণ্ডে বিচার করলে এই কাজকে সঠিক কাজ বলা যাবে না।”

জুমগাঁও গ্রামের ইছরাক চৌধুরী অভিযোগ করেন,

“সরকারি ম্যানুয়াল অনুযায়ী কোনো কাজই করা হয়নি। এত অনিয়ম হয়েছে যে বলার মতো ভাষা নেই।”

গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি হারুনর রশীদ বলেন,

“বালু, পাথর, সিমেন্ট, রড—কোনোটাই ঠিকমতো দেওয়া হয়নি। কাজের দুইদিন পরই বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে।”

প্রকল্পের অনিয়মের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। অনেকে সরাসরি কাজ বন্ধের দাবি জানান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। অভিযোগ উঠেছে, যথাযথ তদারকি ছাড়াই নিম্নমানের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।

এ বিষয়ে হকনগর পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি আনোয়ার ভুইয়া এই আমাদের প্রতিনিধিকে জানান,

“কাজে অনিয়ম ও ত্রুটি দেখা যাওয়ার বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে নিয়েছি। প্রকৌশলী সরাসরি উপস্থিত হয়ে পরিদর্শন না করা পর্যন্ত আপাতত কাজ বন্ধ থাকবে। কৃষক ও সাধারণ জনগণের দাবির সঙ্গে আমরা একমত।”

দোয়ারাবাজার উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার প্রকৌশলী আব্দুল হামিদ বলেন বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি সরজমিনে পরিদর্শন করে যেখানে সমস্যা হবে সেখানে সমাধান করা হবে।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদার চৌধুরী আহসান পারভেজ। তিনি জানান, কাজে কোনো অনিয়ম ও দূর্নীতি হয়নি।

কাজ বন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমাদের মিস্ত্রী চলে আসায় কাজ বন্ধ আছে। শিঘ্রই আবার কাজ শুরু হবে।”

একই ভাষ্য এলজিইডির দোয়ারাবাজার উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী জসীম উদ্দিনের। তিনি বলেন, “যারা অনিয়মের অভিযোগ এনেছেন এসব অভিযোগ মিথ্যা। আমি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। যারা অভিযোগ করেছে যোগাযোগ করে তাদেরকে কাউকে পাইনি। কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম দূর্নীতি হয়নি। ম্যানুয়াল অনুযায়ী কাজ হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। স্বত্ব © ২০২৬ সিলেটের সংগ্রাম