
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন জুয়েলের ছোট ভাই এবং মরহুম মতলীব চেয়ারম্যানের সুযোগ্য সন্তান মাহবুব হোসেন হিমেল আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। অনলাইনে জুয়া খেলার মতো ভিত্তিহীন ও বানোয়াট অভিযোগে তাকে হেনস্তা করার চেষ্টার পর আজ বিকেলে সুনামগঞ্জ জেলা আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল (শুক্রবার ) সন্ধ্যায় দিরাই পৌর শহরের ৯নং ওয়ার্ডে মাহবুব হোসেন হিমেলের নিজ বাসায় পুলিশ যায়। সেখানে পুলিশের সাথে স্বাভাবিক আলাপচারিতার এক পর্যায়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে দিরাই থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরীর নির্দেশে আজ দুপুরে তাকে সুনামগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করা হলে বিজ্ঞ আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে অভিযোগের কোনো ভিত্তি না পাওয়ায়
হিমেলের জামিন মঞ্জুর করেন।
জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় মাহবুব হোসেন হিমেল সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের পরিবারের সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম নষ্ট করার জন্য একটি বিশেষ পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র করে আসছে। সেই পুরনো পারিবারিক শত্রুতার জের ধরেই আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করতে এই ‘অনলাইন জুয়া’র নাটক সাজানো হয়েছে। দিরাইয়ের সর্বস্তরের মানুষ জানেন আমার মরহুম পিতা কেমন ছিলেন এবং আমাদের পরিবার কেমন। অনলাইন জুয়ার মতো জঘন্য কাজের সাথে আমার দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই।”
তিনি আরও বলেন “সত্যকে কখনোই মিথ্যা দিয়ে ঢেকে রাখা যায় না। বিজ্ঞ আদালত আমার প্রতি ন্যায়বিচার করেছেন, তাই আমি কৃতজ্ঞ। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই এবং ভবিষ্যতে যেন আর কেউ এমন ভিত্তিহীন ষড়যন্ত্রের শিকার না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”
এদিকে হিমেলের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের দাবি, হিমেল একজন অত্যন্ত বিনয়ী, মার্জিত ও সমাজসেবী যুবক হিসেবে পরিচিত। তাকে এমন হাস্যকর অভিযোগে হয়রানি করায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। আদালতের জামিনের খবর এলাকায় পৌঁছালে তার পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে। এলাকাবাসী এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পেছনে থাকা কুচক্রী মহলের মুখোশ উন্মোচন ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।