
রেজাউল হাসান |
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কাঠইর ইউনিয়নের জগজীবনপুর গ্রামে আদালতের মামলাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত রমজান মাসের একটি সংঘর্ষের ঘটনায় চলমান মামলার বাদী দুলাল মিয়াকে প্রকাশ্যে বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে সজীব ও মাহবুব নামক দুই যুবক প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং যে কোনো সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, গত পবিত্র রমজান মাসে জগজীবনপুর ও ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ সংঘটিত হয়। ওই ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে সুনামগঞ্জ সদর থানায় দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্রের মহড়া ও হুমকি
ভুক্তভোগী দুলাল মিয়া জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর তিনি সুনামগঞ্জ শহর থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। জগজীবনপুর-ব্রাহ্মণগাঁও যাত্রী ছাউনির সামনে পৌঁছামাত্র একটি মোটরসাইকেলে করে সজীব, মাহবুবসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জন তার পথরোধ করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের সামনেই সজীব ও মাহবুব দুলাল মিয়ার বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে হুংকার দিয়ে বলে— “এই পিস্তল শুধু তোদের মারার জন্যই কিনেছি। এর আগে তোদের ৩-৪ জনকে রাস্তায় ফেলে পিটিয়েও আমাদের স্বাদ মেটেনি।”
দুলাল মিয়ার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। প্রাণে বেঁচে গেলেও বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
অভিযুক্তদের তালিকা
ঘটনায় সরাসরি জড়িত ও হুমকির অভিযোগে অভিযুক্তরা হলেন:
১. সজীব (পিতা: সমছু মিয়া)
২. মাহবুব (পিতা: কাসেম মিয়া)
৩. আলম (পিতা: এলখাছ মিয়া)
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্তরা একটি সংঘবদ্ধ গ্যাংয়ের সদস্য এবং এলাকায় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করে তুলছে। ঘটনার পর ওই এলাকায় অভিযুক্তদের পক্ষে ৪০ থেকে ৫০ জন লোক রাস্তায় অবস্থান নিয়ে দুলাল মিয়া ও তার পরিবারকে অবরুদ্ধ করার চেষ্টা চালায় বলে জানা গেছে।
জনপ্রতিনিধির বক্তব্য ও আইনি দাবি
এ বিষয়ে কাঠইর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আজিম আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আমি বিষয়টি শুনেছি। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এভাবে পিস্তল ঠেকিয়ে হুমকি দেওয়া অত্যন্ত জঘন্যতম অপরাধ। আমি প্রশাসনকে অনুরোধ করছি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য।”
শঙ্কায় এলাকাবাসী
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের যত্রতত্র ব্যবহারে জগজীবনপুর ও পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত এই ‘কিশোর গ্যাং’ ও অস্ত্রধারীদের গ্রেফতার করা না হলে সুনামগঞ্জে বড় ধরনের কোনো হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে যেতে পারে।
বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের উচ্চমহলের হস্তক্ষেপ ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।