1. muftiabutahermisbah@gmail.com : Abu Taher : Abu Taher
  2. sylhetersangram2025@gmail.com : sylhetersangram :
১১ মাস বেতন নেই, হঠাৎ জানলেন ৫৩ জনের চাকরিটাও নেই - sylhetersangram
৩রা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ১৮ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| হেমন্তকাল| মঙ্গলবার| রাত ১২:০৪|
Title :
জামালগঞ্জে মাদক, জুয়া, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহবিরোধী সভা মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধার প্রতিবাদে যশোরে মানববন্ধন ও গণসমাবেশ জামালগঞ্জে সার-বীজ মনিটরিং সভা অনুষ্ঠিত মোকাদ্দেস হোসেন বাবু স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের পয়েন্ট পর্ব শেষ, সেমিফাইনালে চার দল বীরগঞ্জে পলাশবাড়ী চাষী ক্লাবের ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন রাসায়নিক দিয়ে কদবেল পাকানোর দায়ে ফল ব্যবসায়ীকে জরিমানা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ রাজিব পরিবহন বন্ধের দাবিতে সংবাদ প্রকাশের জেরে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার মামলা, মৌলভীবাজারে ক্ষোভ সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এড. নুরুল ইসলাম নুরুলের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদ জেলা বিএনিপর সংবাদ সম্মেলন শাবিপ্রবিতে এইচআরডিএস’র প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

১১ মাস বেতন নেই, হঠাৎ জানলেন ৫৩ জনের চাকরিটাও নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, জুন ৫, ২০২৫,
  • 945 Time View

আমার এক ছেলে মাদরাসায় পড়ে। ১১ মাস বেতন নেই, ছেলের মাদরাসার খরচও দিতে পারছি না। যে হাতে ভাত খাই, সেই হাত দিয়েই মানুষের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করি। তবুও আমাদের ভাগ্যে এত দুর্দশা। দীর্ঘদিন আন্দোলন করেও কোনো সুরাহা হয়নি। এতদিন পর এসে এখন শুনছি চাকরিই নেই। এই বয়সে এসে অন্য কোথাও গিয়ে কাজ করব সেই সুযোগও নেই। এ খবরে আমরা সকলে দিশেহারা হয়ে গেছি। এভাবে হতাশার কথা বলছিলেন ফেনী জেনারেল হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ে কর্মরত বিবি কুলসুম নামে এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী। বিবি কুলসুমের মতো এমন একই গল্প হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ে কাজ করা আরও ৫৩ জনের।

ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আওতাধীন ৫৩ জন আউটসোর্সিং কর্মচারী রয়েছেন। ইতোপূর্বে সরকার থেকে তাদের জন্য ২১ হাজার ৫৫০ টাকা বেতন বরাদ্দ হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বেতন দিয়েছেন ৮ হাজার টাকা। তাও ছিল অনিয়মিত। পরবর্তীতে হাসপাতালের চাহিদা পূরণের জন্য আরও ২৯ জন আউটসোর্সিং কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হলেও এদের কাউকেই বেতন-ভাতা দেয়নি ঠিকাদার। রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে ১০/২০ টাকা করে নিয়ে কোনোরকমে দিনযাপন করছিলেন তারা। সবশেষ সোমবার (২ জুন) তাদের বকেয়া বেতন ও চাকরির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো বার্তা ও চাকরি না থাকার কথা জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

আউটসোর্সিংয়ে কর্মরত ঝর্ণা রক্ষিত বলেন, ‘২০০২ সালে মাত্র আড়াই হাজার টাকা বেতনে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ঝাড়ুদারের কাজ শুরু করেছিলাম। ২৩ বছর কাজ করে গেলেও চাকরি স্থায়ী হয়নি। বরং বিভিন্ন সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমাদের নামে অনেক বেশি বেতন তুললেও প্রকৃতপক্ষে পেয়েছি সামান্য কিছু। সর্বশেষ ১১ মাস বেতন ছাড়াই কাজ করে যাচ্ছি। পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। এতদিন পর এসে এখন শুনছি চাকরিই নেই। এমন ঘটনায় রীতিমতো ভেঙে পড়েছি।’

ইলিয়াস নামে এক আউটসোর্সিং কর্মচারী বলেন, ২০১৮ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত শর্শদি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জানে আলম আমাদের বেতন দিতেন ৩ হাজার ২০০ টাকা। পরে আমরা আন্দোলন করলে তিনি ৬ হাজার টাকা বেতন দেন। তারপর সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম হাজারীর অন্যতম ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত শরীফ উল্যাহ এসে বেতন ৮ হাজার টাকা করলেও আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগে থেকেই আমাদের বেতন বন্ধ হয়ে যায়। এত কিছুর মধ্যেও মানুষের সেবায় নিয়োজিত ছিলাম। কিন্তু এখন নাকি আমাদের চাকরিই নেই।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফেনী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. কামরুজ্জামান বলেন, আউটসোর্সিংয়ে কর্মরতদের বিষয়ে কোনো বরাদ্দ নেই। মন্ত্রণালয় থেকেও তাদের না নেওয়ার বিষয়ে জানিয়ে দিয়েছেন। বরাদ্দ না পেলে তো বেতন দেওয়া সম্ভব না।

আউটসোর্সিং কর্মচারীদের অনুপস্থিতিতে হাসপাতালের শৃঙ্খলায় প্রভাব পড়বে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখানে আমাদের কিছু করার নেই। তারা থাকলে থাকতে পারেন, অথবা চলে যেতে পারেন-কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার আলোকে এমনটিই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিয়মানুযায়ী আমাদের অবস্থান থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। স্বত্ব © ২০২৬ সিলেটের সংগ্রাম