1. muftiabutahermisbah@gmail.com : Abu Taher : Abu Taher
  2. sylhetersangram2025@gmail.com : sylhetersangram :
দিরাইয়ে ইউপি সদস্য আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে অবৈধ মাছ আহরণ, মাদক ও সন্ত্রাসের অভিযোগ - sylhetersangram
১লা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ১৬ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| হেমন্তকাল| রবিবার| সন্ধ্যা ৭:৪০|
Title :
দোয়ারাবাজারের ইউএনও অরূপ রতন সিংহের পদোন্নতিজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত শান্তিগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারীদের দ্বিতীয় ধাপে প্রশিক্ষণ শুরু কমলগঞ্জে গাছ বাঁচাতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ জামাল হোসেনের ফুলবাড়ীয়ার সেই যুবদল নেতা হযরত আলী বহিস্কার ময়মনসিংহ শিক্ষাবোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৫১.৪৪ শতাংশ পাঁচবিবিতে এমপি সাঈদের সঙ্গে চেয়ারম্যান প্রার্থী এবাদতের মতবিনিময় জাতীয় পর্যায়ে খেলোয়াড় তৈরির স্বপ্ন নিয়ে শান্তিগঞ্জে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬ পাঁচ মাস ধরে ভাতা বন্ধ, চরম আর্থিক সংকটে লাউয়াছড়ার বনপ্রহরীরা চুয়াডাঙ্গায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত মুন্সিগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ঢাকা পল্টন থানা বিএনপি ভাইস-প্রেসিডেন্ট পদে চুন্নু।

দিরাইয়ে ইউপি সদস্য আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে অবৈধ মাছ আহরণ, মাদক ও সন্ত্রাসের অভিযোগ

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫,
  • 771 Time View

দিরাই (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:

 

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে অবৈধ মাছ আহরণ, মাদক সেবন, জুয়া ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ও তার অনুসারীরা প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি করে আসছেন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আতাউর রহমানের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র কামারখাল নদীর পূর্ব পাড় থেকে পশ্চিম পাড় পর্যন্ত বিশাল আকারের অবৈধ ছটা জাল স্থাপন করেছে। এসব জালের মাধ্যমে ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নির্বিচারে আহরণ করা হচ্ছে, যার বাজারমূল্য লক্ষ লক্ষ টাকা বলে দাবি এলাকাবাসীর। অবৈধ জালের কারণে নদীতে নৌকা চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ ও জেলেরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নদীর পশ্চিম পাড়ে একটি কবরস্থানের পাশে অবৈধভাবে একটি ছাপ্টা ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। ওই ঘরে নিয়মিত মদ ও গাঁজা সেবনসহ জুয়ার আসর বসে। দিন ও রাতে সেখানে হৈ-হুল্লোড়, মাতলামি ও চিৎকারে এলাকার পরিবেশ অশান্ত হয়ে উঠছে। স্থানীয়রা জানান, এসব কর্মকাণ্ডে এলাকার যুবসমাজ নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে এবং সামাজিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ছে।

 

সচেতন মহল ও গ্রামবাসীরা অবৈধ ছটা জাল অপসারণ এবং কবরস্থানের পাশে মাদক ও জুয়ার আসর বন্ধের দাবি জানালে আতাউর রহমান ও তার সহযোগীরা প্রকাশ্যে হুমকি দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা হুমকি দিয়ে বলেন, নদীতে মাছ আহরণ তারা চালিয়েই যাবেন এবং কেউ বাধা দিলে তাকে হত্যা করে লাশ নদীতে ইট বেঁধে ফেলে দেওয়া হবে। এসব হুমকিতে সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছেন।

 

আরও অভিযোগ রয়েছে, আতাউর রহমানের একটি সংঘবদ্ধ গুন্ডা বাহিনী রয়েছে। তারা লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রায়ই এলাকায় ঘোরাফেরা করে এবং সুযোগ পেলেই সাধারণ মানুষের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এর ফলে এলাকায় প্রায় সময় মারামারি ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। অনেকেই নিরাপত্তাহীনতার কারণে মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা আরও দাবি করেছেন, একসময় চরম দারিদ্র্যের মধ্যে জীবনযাপন করা আতাউর রহমান বর্তমানে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার গ্রামের বাড়ি দিরাই উপজেলার রাজনগর (হালেয়া) গ্রামে এখন সম্পদের পাহাড় গড়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তার মেয়ে লন্ডনে বসবাস করেন এবং তার নামে বা নিয়ন্ত্রণে এলাকায় একাধিক বাড়ি ও কয়েকটি অবৈধ বিল রয়েছে। এসব সম্পদের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন এলাকাবাসী।

 

স্থানীয়দের মতে, পতিত আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের হাত ধরে আতাউর রহমানের উত্থান ঘটে। ওই সময় রাজনৈতিক পরিচয়কে ব্যবহার করে তিনি অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন এবং এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি এখনো এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন এবং প্রশাসনের একটি অংশকে প্রভাবিত করে ত্রাসের রাজত্ব বজায় রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদেরও হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে আতাউর রহমান ও তার সহযোগীরা বাজে ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছেন।

 

অভিযোগগুলোর বিষয়ে আতাউর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

 

এলাকাবাসী ও সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অবৈধ ছটা জাল অপসারণ, কবরস্থানের পাশে মাদক ও জুয়ার আসর বন্ধ, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। স্বত্ব © ২০২৬ সিলেটের সংগ্রাম