
দিরাই প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় পুরোনো একটি সড়ক উন্নয়ন কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের ও জগদল ইউনিয়নের মাটিয়াপুর -জগদল সড়কে এ সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। এতে কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানান, শুরু থেকেই সড়ক উন্নয়ন কাজে চরম অনিয়ম চলছে। ঠিকাদার সিডিউল অনুযায়ী কাজ না করে ইচ্ছেমতো কাজ পরিচালনা করছেন। ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের সামগ্রী। আমরা বারবার বলেছি যেন কাজের মান বজায় রাখা হয়, কিন্তু কেউ আমাদের কথা শুনছে না। এভাবে চলতে থাকলে কয়েক মাসের মধ্যেই সড়ক আবার নষ্ট হয়ে যাবে। দীর্ঘদিন পর আমরা রাস্তা পেয়েছি নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২৫-২৬ অর্থ বছরে মাটিয়াপুর- জগদল সড়কে
২ হাজার ২৪ মিটার উন্নয়নের কাজ পান মেসার্স এম এম বিল্ডার্স নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। যার বরাদ্দ ২ কোটি ১৭ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি মাসে উক্ত সড়কের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। চলতি সনের ২৬ মে উক্ত কাজের মেয়াদ শেষ হবে।
মঙ্গলবার (০৯ মার্চ) সরেজমিনে দেখা যায়, সড়ক উন্নয়ন কাজে ব্যবহৃত ইটের খোয়া অত্যন্ত নিন্ম মানের। এমনকি মোটরসাইকেলর সামান্য চাপেই সেগুলো ভেঙে গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে। নির্মাণ সামগ্রীর এমন গুণগত মানে প্রশ্ন উঠেছে পুরো প্রকল্পের টেকসইতা নিয়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সিডিউল অনুযায়ী উন্নতমানের উপকরণ ব্যবহার না করে দায়সারাভাবে কাজ করা হচ্ছে, যার ফলে অল্প সময়েই সড়কটি আবার চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয় রহিম মাস্টার সহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে জানান, কাজের শুরু থেকেই অনিয়ম করেছেন ঠিকাদার। বাঁধা দেয়ায় দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ রাখা হয়। এতে স্থানীয়দের চলাচলে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সম্প্রতি পুণরায় কাজ শুরু করেও সিডিউল অনুযায়ী কাজ করছেন না ঠিকাদার। সড়কটি উন্নয়নে যতো ধরণের অনিয়ম করা সম্ভব, তার সবই করা হচ্ছে।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি জিকু জানান, কাজে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না। সিডিউলে যেভাবে আছে, সেভাবেই কাজ হচ্ছে। তবে কাজের মধ্যে ঊনিশ-বিশ হতে পারে। এছাড়া উক্ত সড়কের প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে জানান তিনি