
নিজস্ব প্রতিবেদক, দিরাই (সুনামগঞ্জ):
ভালো ভবিষ্যতের আশায় বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে ইউরোপের পথে পা বাড়িয়েছিলেন সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের মাটিয়াপুর গ্রামের তরুণ মেহেদী হাসান তায়েফ। কিন্তু সেই স্বপ্ন মাঝপথেই ধূলিসাৎ হয়ে গেছে দালাল চক্রের নির্মমতায়। লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিস যাওয়ার পথে অমানুষিক নির্যাতন ও অনাহারে প্রাণ হারিয়েছেন টকবকে এই যুবক।
নিহত তায়েফের পিতা আনোয়ার হোসেনের অভিযোগ, একই উপজেলার জগদল গ্রামের ইতালি প্রবাসী সালেহ আহমদের প্রলোভনে পড়ে তিনি তার ছেলেকে লিবিয়া পাঠিয়েছিলেন। ছেলেকে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য দালালের সাথে প্রথমে ১২ লাখ টাকার চুক্তি হয়। পরে ছেলের নিরাপত্তার কথা ভেবে আরও এক লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ১৩ লাখ টাকায় রফা হয়। চুক্তির অংশ হিসেবে দিরাই পৌরসভার মজলিসপুর এলাকায় দালালের মায়ের হাতে নগদ এক লাখ টাকাও দিয়ে আসেন আনোয়ার হোসেন।
কিন্তু লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর শুরু হয় তায়েফের ওপর বিভীষিকা। আনোয়ার হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “পাষণ্ড দালালরা আমার ছেলেকে একটু খাবার আর পানি পর্যন্ত দেয়নি। দিনের পর দিন না খাইয়ে রেখে তারা আমার ছেলেকে তিলে তিলে মেরে ফেলেছে।”অভিযোগ রয়েছে, লিবিয়ায় অবস্থানরত সালেহ আহমদের সহযোগীরা তায়েফের ওপর অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন চালায়। দীর্ঘ সময় খাবার ও পানিহীন অবস্থায় নিস্তেজ হয়ে পড়া তায়েফ শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। অভিযুক্ত দালাল সালেহ আহমদ দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের নতুন জগদল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে ইতালিতে অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকেই লিবিয়ায় থাকা মানবপাচারকারী চক্রের মাধ্যমে লোক পাঠাতেন। তায়েফের মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সালেহ আহমদ তার ফোন বন্ধ করে দিয়েছেন এবং পরিবারের সাথে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন। এ বিষয়ে তাঁর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে এখন দিশেহারা বাবা আনোয়ার হোসেন। তিনি সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, “আমি আমার সন্তানকে হারিয়েছি, আর কোনো বাবার বুক যেন এভাবে খালি না হয়। আমি দালাল সালেহ আহমদসহ এই চক্রের সাথে জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
এলাকায় এ ঘটনায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে মানবপাচারকারী এই চক্রটিকে আইনের আওতায় আনার দাবি
জানিয়েছেন।