
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ন্যাক্কারজনক হেনস্তা ও অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন দৈনিক ‘সুনামগঞ্জের সময়’ পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি কামরুল হাসান মিঠু। গত রাতে উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের মকসদপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। সাংবাদিককে ‘চোর’ সাজিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিকৃত ভিডিও প্রচারের ঘটনায় দিরাইয়ের সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মকসদপুর গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি অভ্যন্তরীণ সংঘাতের সংবাদ সংগ্রহ করতে রাতে ওই গ্রামে যান সাংবাদিক কামরুল হাসান মিঠু। গ্রামে প্রবেশের পর কিছু লোক তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি তাৎক্ষণিক নিজের পেশাগত পরিচয় দেন এবং আইডি কার্ড প্রদর্শন করেন। অভিযোগ উঠেছে, মকসদপুর গ্রামের চিহ্নিত মাদককারবারী মিজানুর রহমান রিয়াদ এবং চোরাচালানের সাথে জড়িত তাহমিম চৌধুরী পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে এই হেনস্তার ঘটনা ঘটিয়েছে।
সাংবাদিক কামরুল হাসান মিঠু ইতিপূর্বে তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় তারা তাকে টার্গেট করে। তারা প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে মাত্র ২০ সেকেন্ডের একটি খণ্ডিত ভিডিও ধারণ করে এবং সাংবাদিক মিঠুকে ‘চোর’ সাজিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে দেয়। স্রেফ ভাইরাল হয়ে অর্থ উপার্জনের নেশায় তারা একজন সংবাদকর্মীর সামাজিক মর্যাদাকে ধূলিসাৎ করার অপচেষ্টায় মেতে ওঠে।
ঘটনার এক পর্যায়ে গ্রামের মুরুব্বিরা সাংবাদিক কামরুল হাসান মিঠুর সঠিক পরিচয় নিশ্চিত হন এবং নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে তাকে সসম্মানে বিদায় দেন। গ্রামবাসী তাদের আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেও, স্বার্থান্বেষী মহলের ছড়িয়ে দেওয়া ওই ভিডিওটি সাংবাদিকের ব্যক্তিগত ও পেশাগত মর্যাদাকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে। পরবর্তীতে অভিযুক্তরা সাংবাদিকের কাছে ক্ষমা চাইলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তি নিয়ে ক্ষোভ কাটছে না স্থানীয়দের।
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দিরাইয়ে কর্মরত সংবাদকর্মীরা বলেন, “একজন সংবাদকর্মী যখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমাজের অসংগতি তুলে ধরেন, তখন তাকে এভাবে হেনস্তা করা এবং সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য মিথ্যা অপবাদ দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে বড় বাধা। যারা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সাংবাদিকের সম্মানহানি করেছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।”
হেনস্তার শিকার সাংবাদিক কামরুল হাসান মিঠু বলেন, “আমি দীর্ঘ দিন ধরে নিষ্ঠার সাথে সাংবাদিকতা করে আসছি। পেশাগত কাজেই আমি মকসদপুর গ্রামে গিয়েছিলাম। কিন্তু কিছু মানুষ ভাইরাল হওয়ার লোভে আমার ওপর মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ভিডিও ছড়িয়েছে। আমি চাই না ভবিষ্যতে আর কোনো সাংবাদিকের সাথে এমন অমর্যাদাকর ঘটনা ঘটুক। আমি এই অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ ও বিচার জানাই।”
দিরাইয়ের সচেতন মহল মনে করেন, সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করতে এবং সামাজিকভাবে হেয় করতে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
উল্লেখ্য, কামরুল হাসান মিঠুর স্থায়ী নিবাস দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামে। বর্তমানে তিনি দিরাই পৌরসভার আনোয়ারপুর গ্রামে বসবাস করছেন। তার ওপর এই অতর্কিত অপপ্রচারের ঘটনায় পুরো উপজেলায় নিন্দার ঝড় বইছে।