
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার মকসদপুর গ্রামে এক ব্যক্তির দায়ের করা একের পর এক মামলার কারণে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। গ্রামবাসীর অভিযোগ, নুরুজ্জামান নামে এক ব্যক্তির ধারাবাহিক হয়রানিমূলক মামলার ভয়ে গ্রামের অধিকাংশ পুরুষ বর্তমানে এলাকাছাড়া। এতে একদিকে পরিবারগুলোতে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে চলতি বোরো মৌসুমে ফসল ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কিত কৃষকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামের একটি ক্ষুদ্র জলমহালের ইজারা নিয়ে বিরোধের শুরু। উন্মুক্ত ডাকে নুরুজ্জামান ব্যর্থ হয়ে গ্রামবাসীর পছন্দের ইজারাদার জুনেদ মিয়ার ওপর ক্ষুব্ধ হন। অভিযোগ রয়েছে, এরপর থেকেই তিনি গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র শুরু করেন। এমনকি জলমহালে বিষ প্রয়োগের মতো ঘটনাও ঘটে, যার জন্য পরবর্তীতে শালিসে নুরুজ্জামান ক্ষমা চেয়ে জরিমানা দিয়েছিলেন।
সর্বশেষ গত ১৪ জানুয়ারি একটি জমিতে ঘর তোলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় ৭৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন নুরুজ্জামান। অবাক করার বিষয় হলো, ওই মামলার ২ নম্বর সাক্ষী আব্দুর রউফসহ আরও কয়েকজন সাক্ষী আদালতে এফিডেভিট দিয়ে জানিয়েছেন যে, তারা ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না এবং তাদের অজান্তেই সাক্ষী করা হয়েছে। প্রধান আসামি করা হয়েছে শারীরিকভাবে অসুস্থ মিহির চৌধুরীকে, যা স্থানীয়দের মতে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
মামলার ভয়ে গ্রামের পুরুষরা পালিয়ে থাকায় মহিলারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বয়োজ্যেষ্ঠ জিল্লুর রহমান চৌধুরী ও স্থানীয় বাসিন্দা পরিমল দাস জানান, সামান্য ঘটনায় ঢালাওভাবে মামলা দিয়ে পুরো গ্রামের শান্তি নষ্ট করা হচ্ছে। গ্রামবাসীর দাবি, নুরুজ্জামান নিজের ঘর ভাঙচুর করে উল্টো গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
এ বিষয়ে দিরাই থানার ওসি এনামুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, দুই পক্ষের মধ্যেই মামলা রয়েছে এবং পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে।