1. muftiabutahermisbah@gmail.com : Abu Taher : Abu Taher
  2. sylhetersangram2025@gmail.com : sylhetersangram :
ধলাই নদীতে পলো উৎসব, মাছ ধরার আনন্দে মাতলেন দুই শতাধিক শৌখিন শিকারি - sylhetersangram
৩রা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ১৮ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| হেমন্তকাল| মঙ্গলবার| রাত ৯:৫৭|
Title :
শান্তিগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন ¨দিরাই জারুলিয়া গ্রামে বিদ্যুৎতের আগুনে ১৪টি পরিবারের বসতঘর ও আসবাবপত্র পুড়ে ছাই,আনুমানিক ৪/৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি নিজস্ব অর্থায়নে কালারচরের বেহাল রাস্তা সংস্কার করলেন সাদ্দাম, স্বস্তিতে এলাকাবাসী মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসি, নিজ নিজ অবস্থান থেকে সমাজ বদলাই। মৃত্যুর আগে ভিডিওতে অভিযুক্তদের নাম প্রকাশ মধুখালীতে সংঘবদ্ধ ধর্ষনের অভিযোগ হারপিক পানের ৪৩ দিনপর কিশোরীর মৃত্যু আট দফা দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবে শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের সংবাদ সম্মেলন অর্থের অভাবে থমকে আছে জাহিদুলের চিকিৎসা, অনিশ্চয়তায় ৫ সদস্যের পরিবার ও ছেলের হাফেজ হওয়ার স্বপ্ন। ময়মনসিংহে স্ত্রীর সাথে জামায়াত নেতার বিবস্ত্র ভিডিও ভাইরাল, পদ স্থগিত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় ত্রিশালে কমিটি, নেতৃত্বে শাহাবুল-কায়েকোবাদ জামালগঞ্জে মাদক, জুয়া, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহবিরোধী সভা মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধার প্রতিবাদে যশোরে মানববন্ধন ও গণসমাবেশ

ধলাই নদীতে পলো উৎসব, মাছ ধরার আনন্দে মাতলেন দুই শতাধিক শৌখিন শিকারি

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৬,
  • 46 Time View

 

রাজন আবেদীন রাজু, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা লোকজ সংস্কৃতির এক প্রাণবন্ত অনুষঙ্গ ‘পলো বাওয়া’। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই ঐতিহ্যকে ঘিরে রোববার (২৫ অক্টোবর) উৎসবমুখর হয়ে ওঠে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদী। নদীর বুকে পলো হাতে মাছ ধরার আনন্দে মেতে ওঠেন বিভিন্ন গ্রামের দুই শতাধিক শৌখিন মাছ শিকারি। তাঁদের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন দেখতে নদীর দুই পাড়ে জড়ো হন নানা বয়সী মানুষ।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ধলাই নদীকে ঘিরে শত বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসছে এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজন। প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে দলবদ্ধভাবে মাছ শিকারের মধ্য দিয়ে গ্রামীণ জীবনের আনন্দ, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও লোকজ ঐতিহ্যের প্রকাশ ঘটে।
রোববার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার মিরতিংগা চা বাগানসংলগ্ন ধলাই নদীর স্টিল ব্রিজের উজান থেকে শুরু হয় এবারের উৎসব। দুপুরে নদীতে মাছ শিকারের তৎপরতা আরও বাড়ে। আয়োজনে অংশ নেন রহিমপুর ও মুন্সীবাজার ইউনিয়নের কালাছড়া, দেবিপুর, ধর্মপুর, জসমতপুর, বড়চেগ, চৈত্রঘাট, সিদ্ধেশ্বরপুর ও রামচন্দ্রপুরসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ। প্রায় তিন থেকে চার ঘণ্টাব্যাপী চলে এ উৎসব।
নদীতে মাছ ধরার দৃশ্য ছিল উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ। একদল শিকারি নদীর এক পাশে সারিবদ্ধভাবে জাল নিয়ে অবস্থান নেন। অপর দল পলো হাতে নদীর বিপরীত দিক থেকে এগিয়ে গিয়ে পানিতে পলো চেপে মাছ ধরার চেষ্টা করেন। ঐতিহ্যবাহী পলোর পাশাপাশি উড়াল জাল ও প্লেইন জাল দিয়েও মাছ শিকার করেন অংশগ্রহণকারীরা। নদীর পানিতে একসঙ্গে অনেকের মাছ ধরার এমন দৃশ্য উপভোগ করেন দর্শনার্থীরা। তাঁদের হাততালি ও উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে নদীর দুই তীর।
উৎসবে অংশ নেওয়া প্রবীণ মাছ শিকারি নুর মিয়া বলেন, “বছরের এই দিনটির জন্য আমরা অপেক্ষা করে থাকি। একসঙ্গে নদীতে নেমে মাছ ধরার আনন্দ অন্য রকম। এটি শুধু মাছ ধরার আয়োজন নয়, গ্রামের মানুষের মিলনমেলাও।
তবে সময়ের সঙ্গে এই উৎসবের জৌলুশ কমে আসছে বলে আক্ষেপ করেন তিনি। তাঁর মতে, নদীতে বিষ প্রয়োগে মাছের ক্ষতি এবং নদী-নালা, খাল-বিল ও হাওরের তলদেশ ভরাট হয়ে পানির পরিমাণ কমে যাওয়ায় মাছের প্রাপ্যতা আগের মতো নেই। ফলে ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজনও আগের আকর্ষণ হারাচ্ছে।
শৌখিন মাছ শিকারি আমির উদ্দিন ও তোতা মিয়া বলেন, পলো বাওয়া গ্রামীণ ঐতিহ্য ও মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতির প্রতীক। আধুনিকতার প্রভাবে অনেক লোকজ আয়োজন হারিয়ে গেলেও এ উৎসব এখনো মানুষের মধ্যে একসঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার সুযোগ তৈরি করে। নতুন প্রজন্মকে গ্রামবাংলার এই সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত রাখতে এমন আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের কাছে পলো বাওয়া কেবল মাছ শিকারের উৎসব নয়; এটি শৈশবের স্মৃতি, গ্রামীণ মিলনমেলা এবং দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। ধলাই নদীকে ঘিরে এই আয়োজন টিকিয়ে রাখতে নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ রক্ষা, মাছের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র সংরক্ষণ এবং অবৈধভাবে মাছ নিধন বন্ধের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। স্বত্ব © ২০২৬ সিলেটের সংগ্রাম