
প্রতিদিন সন্ধ্যায় জমে ওঠে সংগীতের আসর, পৌর শহর ভরে ওঠে সুর ও আনন্দে
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার আরশিনগরে প্রতিদিন গান পরিবেশন করছে ১০ সদস্যের এক সঙ্গীত টিম।
তাদের সুরে মুগ্ধ হয়ে হাজির হন হাজারো মানুষ।
দিরাই পৌরশহরের এই এলাকায় এই সঙ্গীত টিম এখন একটি নিয়মিত সাংস্কৃতিক আয়োজন হিসেবে পরিচিত। বিকেল নামতেই স্থানীয় বাজার, চা-স্টল ও গ্রামপাড়া সব জায়গায় মানুষের ভিড় জমতে থাকে।
টিমটিতে আছেন বিভিন্ন পেশার মানুষ—প্রভাষক বিপ্লব দাশ অভি, প্রাপ্তি দেবি, রমা পাল, ব্যবসায়ী সিব্বির আহমেদ, সিলেট মদন মোহন কলেজের শিক্ষার্থী নাহিদ হাসান, ইঞ্জিনিয়ার হাসান আহমেদ, তরুণ সঙ্গীতপ্রেমী অর্জুন দাশ, ব্যবসায়ী জয় রায়, নাহিদ আহমেদ, শেখ হাম্মাদ এবং আরও কয়েকজন স্থানীয় সংগীতপ্রেমী।
স্থানীয়রা বলছেন, এই ধরনের মিশ্র পেশার টিম শহরের সাংস্কৃতিক পরিবেশকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
শ্রোতাদের উপস্থিতি কেবল বিনোদনের জন্য নয়, বরং এটি সমাজ ও সম্প্রদায়ের মানুষকে একত্রিত করার শক্তিশালী মাধ্যম।
প্রতিদিন বিকেল নামতেই টিমটি স্থানীয় মাঠ বা বাজার এলাকায় গান পরিবেশন শুরু করে।
তাদের কণ্ঠে ভেসে ওঠে লোকগান, আধুনিক গান, আঞ্চলিক সংগীত ও ইসলামী গান।
প্রতিটি গানে ফুটে ওঠে আবেগ, সততা এবং মানুষের জীবনের গল্প।
শ্রোতাদের মধ্যে শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই মুগ্ধ হয়ে শোনেন।
স্থানীয়রা জানান, “তাদের গান শুনলে দিনের ক্লান্তি ও চিন্তা ভুলে যাই, মনে শান্তি আসে। গান যেন আমাদের জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে গেছে।”
প্রতিদিন এই সঙ্গীত আসরে উপস্থিত হয়ে শ্রোতারা টিমের প্রতিটি সদস্যকে উৎসাহ দেন।
শিক্ষক, ব্যবসায়ী, ছাত্রছাত্রী—সব বয়সী মানুষ এখানে একত্রিত হয়।
শ্রোতাদের মধ্যে তরুণ প্রজন্মের গণমাধ্যমে কর্মী পাবেল হাসান বলেন,
> “আমরা এখানে শুধু গান শুনতে আসি না, বরং ভালোবাসা, মানবিক সম্পর্ক এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অনুভব করি।”
দিরাই বাজারের সফল ব্যবসায়ী বিকাশ চদ্র দাশ, জানান,
“এই টিম আমাদের জীবনে আনন্দ এবং নতুন উদ্দীপনা নিয়ে এসেছে। প্রতিদিন তাদের গান আমাদের মনকে জাগিয়ে তোলে।”
টিমের সঙ্গীত শুধুই বিনোদন নয়; বরং এটি সমাজের মানুষকে একত্রিত করে এবং সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করার শক্তি বহন করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাদের ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হচ্ছে।
দোরগোড়ায় ছড়িয়ে পড়ছে তাদের সুরের খ্যাতি।
অনেকেই লাইভ দেখতে যুক্ত হচ্ছেন, দূরের গ্রাম থেকেও মানুষ আসে গান শোনার জন্য।
স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মনির আহমদ বলেন,
> “এই ধরনের মিশ্র সঙ্গীত টিম আমাদের পৌরশহরের সাংস্কৃতিক মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তারা প্রমাণ করেছেন—শিল্প ও সৃজনশীলতার জন্য বড় শহরের মঞ্চের প্রয়োজন নেই, ভালোবাসা ও একাগ্রতা থাকলেই যথেষ্ট।”
দিরাইবাসীরা গর্বের সঙ্গে বলেন,
“আমাদের আরশিনগরে প্রতিদিন সুরের উৎসব হয়, যখন এই ১০ সদস্যের টিম গান পরিবেশন শুরু করে।”
এই টিমের গান শুধু সঙ্গীত নয়, বরং ভালোবাসা, আনন্দ এবং সামাজিক সংহতির বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে প্রতিদিন।
তাদের কার্যক্রমে গ্রামের শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই অংশ নিচ্ছে, যার ফলে দিরাইয়ে সঙ্গীতের মাধ্যমে নতুন সামাজিক ঐক্য ও সংস্কৃতির প্রকাশ ঘটছে।