
স্টাফ রিপোর্টার, গোলাম জিলনী দিরাই (সুনামগঞ্জ):
হাওরাঞ্চলের কৃষকদের সহায়তায় মানবিক উদ্যোগ হিসেবে দিনব্যাপী ধান কর্তন কর্মসূচি পালন করেছে দিরাই সমাজসেবা ফাউন্ডেশন। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত দিরাই পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ঘাগটিয়া হাওরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
চলতি বোরো মৌসুমে সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাওরের ধান কেটে ঘরে তোলার তাগিদ থাকলেও শ্রমিক সংকট, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং পরিবহন সমস্যার কারণে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। এমন পরিস্থিতিতে কৃষকদের কষ্ট লাঘবে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ধান কাটার উদ্যোগ নেয় দিরাই সমাজসেবা ফাউন্ডেশন।
সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা সরাসরি মাঠে নেমে কৃষকদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ধান কর্তনে অংশগ্রহণ করেন। এতে নেতৃত্ব দেন সংগঠনের সভাপতি দেবাশীষ দাস দেবল, সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক গোলাম জিলানী, কোষাধ্যক্ষ কেপেন্দ্র দাস, সাংগঠনিক সম্পাদক সংবাদকর্মী ইমরান আহমদ, নির্বাহী সদস্য সাংবাদিক কামরুল হাসান মিটু, ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক হুসাইন আহমদ ও সাবেক কোষাধ্যক্ষ কোহিনুর মিয়াসহ অন্যান্য সদস্যরা।
কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, হাওরের কৃষকরাই দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। তাদের উৎপাদিত ফসল দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। তাই কৃষকদের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানো সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব। তারা আরও বলেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।
এদিকে স্থানীয় কৃষকরা জানান, সরকার ধানের মূল্য নির্ধারণ করলেও বাস্তবে তারা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। বর্তমানে প্রতি মণ ধান ৬০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম। ফলে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
এছাড়া জারলিয়া-দিরাই সড়কের বিভিন্ন অংশ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ধান পরিবহনে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। আগে সহজে ধান বাড়িতে নেওয়া গেলেও এখন নৌকা ও ট্রলির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শ্রমিক সংকট ও অতিবৃষ্টি, যা কৃষকদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
কৃষকরা বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ধান কেটে ঘরে তোলা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিলম্ব হলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
সবশেষে স্থানীয় কৃষকরা দিরাই সমাজসেবা ফাউন্ডেশনের এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় হিসেবে উল্লেখ করেন। তারা সংগঠনটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকলে কৃষকরা উপকৃত হবেন এবং হাওরাঞ্চলের কৃষি উৎপাদনও সুরক্ষিত থাকবে।