1. sylhetersangram2025@gmail.com : sylhetersangram :
পুলিশ শুধু আইন শৃঙ্খলাই রক্ষা করে না, জীবনও বাঁচায়': মুমূর্ষু রোগীকে রক্ত দিলেন ওসি ওমর ফারুক - sylhetersangram
১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ২৭শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| শরৎকাল| শুক্রবার| সন্ধ্যা ৬:১৯|
Title :
জাতিসংঘ মিলেনিয়াম ফেলোশিপ পেলেন শাবিপ্রবির ২৫ শিক্ষার্থী  ওল্ডহ্যামে ০৭নং জগদল ইউনিয়ন নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রুবেল আহমদ’র দিরাই প্রবাসী কল্যাণ পরিষদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা। ‎ আশুলিয়ায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ড্রেন কেটে অবৈধ সংযোগ, সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার চেষ্টা। দাউদপুর ইউপি নির্বাচন: জনপ্রিয়তার শীর্ষে তরুণ প্রজন্মের আইকন এডভোকেট ছালেহ আহমদ দিরাইয়ে মর্নিং ফুটবল টিমের মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সভা জাফলংয়ে ১০ ড্রেজার-৬ এক্সকেভেটরসহ বিপুল সরঞ্জাম ধ্বংস বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি মহিলা দলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সুনামগঞ্জে বর্ণ্যাঢ্য র‍্যালী ও পথসভা অনুষ্ঠিত জাফলংয়ে শুভেচ্ছা যুব সংঘের কমিটি প্রকাশ, সভাপতি আফসার-সম্পাদক নাহিদ ‎জনসেবার লক্ষ্য নিয়ে ১৩ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরছেন রুবেল আহমেদ, জগদল ইউনিয়নে বাড়ছে নির্বাচনী আলোচনা সাস্ট ক্যারিয়ার ক্লাবের উদ্যোগে ‘রোড টু জার্মানি’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

পুলিশ শুধু আইন শৃঙ্খলাই রক্ষা করে না, জীবনও বাঁচায়’: মুমূর্ষু রোগীকে রক্ত দিলেন ওসি ওমর ফারুক

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬,
  • 76 Time View

সানোয়ার হোসাইন, গোয়াইনঘাট (সিলেট):

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা আর অপরাধী দমনের চেনা খোলস পেরিয়ে পুলিশের এক অনন্য মানবিক রূপ দেখল সিলেটের গোয়াইনঘাটবাসী। রক্তের অভাবে যখন এক মুমূর্ষু গর্ভবতী মায়ের জীবনপ্রদীপ নিভে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল, ঠিক তখনই দেবদূতের মতো এগিয়ে এলেন গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক। থানার সমস্ত দাপ্তরিক ব্যস্ততা একপাশে ঠেলে হাসপাতালে ছুটে গিয়ে নিজের শরীর থেকে রক্ত দিয়ে বাঁচিয়ে তুললেন এক প্রসূতি মাকে। পুলিশের এমন মহানুভবতায় কৃতজ্ঞতায় চোখ ভাসছে রোগীর স্বজনদের, আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সিলেটের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষিকা ও উপজেলার লেঙ্গুড়া এলাকার বাসিন্দা আবদুল হামিদের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী জুলফা বেগমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় গোয়াইনঘাট কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, প্রসূতি ও গর্ভস্থ সন্তানের জীবন বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে রক্ত প্রয়োজন। কিন্তু রক্তের গ্রুপ মেলানো এবং তাৎক্ষণিক রক্তদাতার ব্যবস্থা করতে না পেরে চরম দিশেহারা হয়ে পড়েন রোগীর স্বজনরা। সময় যত গড়াচ্ছিল, জুলফা বেগমের শারীরিক অবস্থার তত অবনতি হচ্ছিল। চারদিকে যখন এক বুক হাহাকার আর নিরাশা, ঠিক তখনই এই সংকটের খবর পৌঁছায় গোয়াইনঘাট থানার ওসি ওমর ফারুকের কাছে।

খবর পাওয়ামাত্রই বিন্দুমাত্র দেরি না করে থানার সমস্ত ব্যস্ত কাজ ফেলে দ্রুত গোয়াইনঘাট কেয়ার হাসপাতালে ছুটে যান মানবিক এই পুলিশ কর্মকর্তা। চিকিৎসকদের সাথে কথা বলে জানতে পারেন রোগীর রক্তের গ্রুপের সাথে তার নিজের রক্তের গ্রুপ মিলে গেছে। আর কোনো দ্বিধা না করে তৎক্ষণাৎ হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে পড়েন তিনি। নিজের শরীর থেকে এক ব্যাগ রক্ত দিয়ে প্রসূতি মায়ের শরীরে নতুন জীবনের সঞ্চার করেন। ওসির দেওয়া রক্তে শেষ পর্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থা কেটে যায় জুলফা বেগমের।

এই ঘটনার পর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জুলফা বেগমের মামা জুবায়ের আহমদ আবেগপ্লুত কণ্ঠে বলেন, যখন চারদিক অন্ধকার দেখছিলাম, কোনোভাবেই রক্তের ব্যবস্থা করতে পারছিলাম না, তখন ওসি স্যারের মতো একজন মানুষ এসে আমার জুলফার জীবন বাঁচিয়েছেন। উনার এই ঋণ আমরা কোনোদিন শোধ করতে পারব না। পুলিশ যে মানুষের এত বড় বন্ধু হতে পারে, তা আজ নিজের চোখে দেখলাম।

গোয়াইনঘাট কেয়ার হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার শায়লা ইসলাম স্বর্ণা জানান, সঠিক সময়ে রক্ত পাওয়ায় রোগী এখন আশঙ্কামুক্ত। ওসির এই মহানুভবতা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত একটি নিশ্চিত বড় দুর্ঘটনা থেকে প্রসূতিকে রক্ষা করেছে।

এদিকে ঘটনাটি জানাজানির পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওসি ওমর ফারুকের এই মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন সর্বস্তরের মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ওমর ফারুকের মতো মানবিক ও সংবেদনশীল পুলিশ কর্মকর্তাদের কারণেই আজ সাধারণ মানুষের মাঝে পুলিশের প্রতি আস্থা, বিশ্বাস ও ভালোবাসা বহুগুণ বেড়ে গেছে। পোশাকের ভেতরেও যে একটা বিশাল মানবিক হৃদয় থাকে, ওসি ওমর ফারুক তা আবারও প্রমাণ করলেন।

গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, পুলিশের মূল কাজই হলো মানুষের সেবা করা এবং বিপদে পাশে দাঁড়ানো। একজন গর্ভবতী বোন রক্তের অভাবে মৃত্যুর মুখোমুখি শুনে থানার নিয়মিত কাজের চেয়ে ওই মায়ের জীবন বাঁচানোকেই আমি সবচেয়ে বড় দায়িত্ব মনে করেছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার পাশাপাশি একজন বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক কর্তব্য। একজন মুমূর্ষু মা ও তার সন্তানের জীবন বাঁচাতে পেরে নিজের ভেতর যে আত্মতৃপ্তি পেয়েছি, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। পুলিশ জনগণের সেবক, আমরা সবসময়ই সাধারণ মানুষের পাশে আছি এবং থাকব।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। স্বত্ব © ২০২৬ সিলেটের সংগ্রাম