
স্টাফ রিপোর্টার আলী আহমদ রিপন মৌলভীবাজার
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় এলপি গ্যাসের লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধি এবং পল্লী বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে যোগ হয়েছে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট—সব মিলিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো।
বিশেষ করে শিক্ষার্থী, শিশু এবং বয়স্করা এই সংকটের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী। নিয়মিত লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে, অন্যদিকে গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন বৃদ্ধ ও শিশুরা।
এদিকে সামনে আসন্ন পরীক্ষা নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। অনেক শিক্ষার্থী জানান, প্রতিদিন দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছেন না। সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় পড়ার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এ অবস্থায় পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে যদি লোডশেডিং অব্যাহত থাকে, তাহলে শিক্ষার্থীদের ফলাফল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, রাজনগর উপজেলার মোকাম বাজার এলাকায় রয়েছে অনেক স্কুল ও মাদ্রাসা। বিশেষ করে কেজি স্কুলের ছোট্ট ছোট্ট সোনামনিরাও এই দুর্ভোগের শিকার। তাদের সাথে কথা বললে তারা জানায়, লোডশেডিংয়ের কারণে শ্রেণিকক্ষের ভেতরে চরম গরমে ক্লাস করতে হয়, ফলে তারা মনোযোগ ধরে রাখতে পারছে না এবং শারীরিকভাবেও কষ্ট পাচ্ছে।
এছাড়া এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি (টাইম টেবিল) না থাকায় ভোগান্তি আরও বেড়ে গেছে। কখন বিদ্যুৎ থাকবে আর কখন থাকবে না—এই অনিশ্চয়তার কারণে দৈনন্দিন কাজকর্ম, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
রাজনগর উপজেলার ১নং ফতেপুর ইউনিয়নের মোকাম বাজার এলাকার এক ভুক্তভোগী জানান, “বর্তমানে এলপি গ্যাসের একটি সিলিন্ডারের দাম ২০০০ টাকারও বেশি। আমার আয় সীমিত, এই আয়ে সংসার চালানো এখন অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। তার উপর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও বিদ্যুৎ সংকট—সব মিলিয়ে আমরা খুব কষ্টে আছি।”
তিনি আরও বলেন, বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক সময় রাতভর বিদ্যুৎ না থাকায় পরিবার নিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।
এলাকাবাসীর দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত এই সমস্যাগুলোর সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। অন্যথায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।