
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় মাদকাসক্তি, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য ও সুদের কারবারসহ নানাবিধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে জনজীবনে চরম অস্বস্তি নেমে এসেছে। ইয়াবা, গাঁজা ও মদ্যপানের মতো মরণনেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে এলাকার তরুণ ও যুবসমাজের একটি বড় অংশ। এসব অপকর্মের প্রভাবে এলাকায় চুরি ও উশৃঙ্খলতা বৃদ্ধি পাওয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জগদল ইউনিয়ন ও দিরাই পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিস্তার এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। নেশার টাকার জন্য মাদকাসক্তরা পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে এবং ছোটখাটো চুরিতে লিপ্ত হচ্ছে। বিশেষ করে প্রবাসীদের পরিবার ও সচেতন নাগরিকরা এই পরিস্থিতির কারণে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অভিযোগ উঠেছে, এলাকার কিছু প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এসব অপরাধীরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
এলাকাবাসীর মতে, অপরাধীর কোনো দল বা সুনির্দিষ্ট পরিচয় নেই; তার একমাত্র পরিচয় সে ‘অপরাধী’। যারা এই সমাজবিরোধীদের প্রশ্রয় দিচ্ছে, তারাও সমান অপরাধী। এই সামাজিক অবক্ষয় রোধে এখন ‘সামাজিক বয়কট’ এবং ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনেরা।
ভুক্তভোগী অনেক পরিবারের সদস্য জানান, ভালো পরিবারের সন্তানরাও আজ এই মরণনেশার কবলে পড়ে অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছে। একই সাথে এলাকায় সুদের কারবারিদের দৌরাত্ম্যে অনেক মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবার সর্বস্বান্ত হচ্ছে।
এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষায় স্থানীয় সচেতন মহল ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা যেকোনো অপরাধীকে দেখা মাত্রই আইনের হাতে সোপর্দ করার এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার অনুরোধ জানান।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দিরাই থানা পুলিশ এবং দায়িত্বরত সেনাবাহিনীসহ সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। একটি নিরাপদ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসনের নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন স্থানীয় সুশীল সমাজ।