
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :
সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের সদস্য মো: আক্তার হোসেন এলাকার দাঙ্গাবাজদের গডফাদার বিখ্যাত চাঁদাবাজ এম বদরুল বাহিনীর রোষানলের শিকার হয়েছেন এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে কলকতা গ্রামের মৃত আব্দুল বারিকের ছেলে এম বদরুলের বিরুদ্ধে। পূর্বশত্রুতার জের ধরে এম বদরুল দীর্ঘ দিন যাবত নিজের অধিপত্যে বিস্তার করতে ইউপি সদস্য আক্তার হোসেন ও এলাকার মানুষের সাথে ঝগড়া বিবাদ করে আসছেন। এম বদরুল নিজেই একজন লাটিয়াল বাহিনীর গডফাদার,। তার বিরুদ্ধে কেউ কিছু বললেই তিনি তার মনোনীত গুন্ডাদের নিয়ে সাধারণ মানুষের উপর শুরু করেন অমানবিক নির্যাতন। এলাকায় কেউ তার বিরুদ্ধে পান থেকে চুন খসলেই তিনি রাতের আধারে ঘর থেকে ও তুলে নিয়ে নির্যাতন করেছেন এমন অভিযোগ রয়েছে বদরুল বাহিনীর বিরুদ্ধে। বদরুলের নিজস্ব দশ ভাই থাকায় তিনি ন্যায় অন্যায় কিছুতেই মাথা নত না করে প্রতিনিয়ত অন্যায় ও মন্দ কাজের আশ্রয় দিয়ে থাকেন। মদ ও জুয়া কারবারে রয়েছে উনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। কলকতা গ্রামে সামন্য একটা বিষয় নিয়ে নিজের পেশী শক্তির বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেইসবুকে বর্তমান ইউপি সদস্য আক্তার হোসেন সহ কয়েকজন সচেতন মানুষকে নিয়ে বদরুল মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন অপপ্রচার ও মেম্বার সহ বিভিন্ন মানুষকে গাল মন্দ করেন। এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে। অনেকেই ফেইসবুক কমেন্ট এ এসে এম বদরুলকে উল্টো দোষারোপ করেছেন। কলকতা এলাকার এক যুবক জানান, বদরুল সব সময় অসহায় মানুষের হক মেরে চলেন। এলাকায় অসহায়দের নির্যাতন করাই হলো উনার কাজ। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে বদরুল কে গ্রেফতার করতে দ্রুত আহব্বান জানাচ্ছি।
ভীমখালী ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড সদস্য আক্তার হোসেন বলেন, আমি ও আমার পরিবারকে এলাকার মানুষ ভালো করে চিনেন। আমি মানুষের ভালোবাসায় ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। গত দিনের একটা সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে বদরুল আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন অপপ্রচার ছড়াচ্ছে । আমাদের সম্পর্কে এলাকার মানুষ নিশ্চয়ই অবগত। আমি এ মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন ফেইসবুক পোষ্টের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমি ও আমার এলাকার সম্মানিত লোকদের মান সম্মান হানি করার জন্য আমরা অচিরেই আইনের দ্বারস্থ হবো। আমার গ্রামবাসী সকলেই অবগত বিগত ২০২৩ সালে বদরুলের সন্ত্রাসী দশ ভাইদেরকে নিয়ে আমার নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্টানে বদরুল পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা করে। এতে আমি সহ আমার আমার ভাই ভাতিজা গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যু সাথে পাঞ্জা লড়েছি হাসপাতালে । আমার দোকানের প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।
আমার দোকানের ক্যাশ থেকে ধন মিয়া নামের বদরুলের লাতিত গুন্ডা নগদ পঞ্চাশ হাজার টাকা ও আমার ভাইয়ের দুইটা স্মার্ট মোবাইল ফোন লুটপাট করে নিয়ে যায়। আমি তাদের উগ্র আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সুনামগঞ্জ জেলা আদালতে মামলা দায়ের করি। তৎকালীন জামালগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ দায়িত্বে থাকা মহোদয় মামলা পর্যালোচনা করে বদরুলের দোষ ও আমার উপর নির্যাতনের ঘটনা সতত্যা নিশ্চিত হয়ে আদালতে বদরুলের বিরুদ্ধে রিপোর্ট প্রদান করেন । বর্তমানে মামলা আদালতে সাক্ষী গ্রহনে চলমান আছে। আমি নম্র ও ভদ্র একজন মানুষ,। আমি সব সময় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, আমি বদরুলের অনৈতিক কার্য ক্রমের জন্য বদরুলকে আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি। অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, স্থানীয় কলকতা বাজারে ভুয়া পল্লী চিকিৎসক হিসেবে বদরুল দীর্ঘ দিন ভুল যাবত চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। এতে এলাকার অনেক সাধারণ মানুষ মৃত্যু ঝুকি নিয়ে স্বাস্থ্যহীনতায় ভুগে সিলেট – সুনামগঞ্জে চিকিৎসা করে রক্ষা পায় বদরুলের ভুল চিকিৎসা থেকে। ফার্মেসী ব্যবসার আড়ালে বদরুল এলাকার উঠতি বয়সি যুবতী সহ অনেক প্রবাসীদের স্ত্রীর সর্বনাশ করেন। চিকিৎসার নাম করে গোপন সম্পর্ক করে মান ইজ্জত ও হানি করেন। বদরুলের আপন ভাই গ্রীস প্রবাসী কবিরের স্ত্রীর সাথে গোপন সম্পর্ক স্থাপনের পর প্রবাসী কবির তার স্ত্রী’কে তালাক দেন। স্ত্রী কিপ্ত হয়ে উনার স্বামী কবির ও বদরুলের উপর নারী নির্যাতন মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত এম বদরুলকে একাধিক বার মঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি কল রিসিভ করেন নি। তাই বক্তব্য নিতে সম্ভব হয়নি