
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের পশ্চিম টেংরাটিলা জামে মসজিদকে ঘিরে ইসলামী ফাউন্ডেশনের গণশিক্ষা কার্যক্রমের সরকারি সম্মানী উত্তোলন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মসজিদে দায়িত্ব পালন না করেও হাফেজ হাফিজ উদ্দিনের নামে মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষা কার্যক্রমের সম্মানী নেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও পঞ্চায়েতবাসী। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন তারা।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বাদ জুমআ পশ্চিম টেংরাটিলা জামে মসজিদের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় এলাকাবাসী ও পঞ্চায়েতের লোকজন অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, হাফিজ উদ্দিন পশ্চিম টেংরাটিলা জামে মসজিদের ইমাম কিংবা মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন না। অথচ মসজিদের নাম ব্যবহার করে ইসলামী ফাউন্ডেশনের গণশিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা এবং সরকারি সম্মানী গ্রহণের বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।
তাদের প্রশ্ন—মসজিদে দায়িত্ব পালন না করলে সংশ্লিষ্ট সরকারি কার্যক্রমে তাঁর নাম কীভাবে অন্তর্ভুক্ত হলো? মসজিদ কমিটি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন থাকলে তার নথিপত্রই বা কোথায়? আর যদি অনুমোদন না থাকে, তাহলে সরকারি সম্মানী উত্তোলনের সুযোগ কীভাবে তৈরি হলো?
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ইসলামী ফাউন্ডেশনের গণশিক্ষা কার্যক্রমের অর্থ জনগণের কল্যাণে ব্যয় হওয়ার কথা। কোনো মসজিদের নামে বরাদ্দকৃত অর্থ প্রকৃত দায়িত্বশীল ব্যক্তির পরিবর্তে অন্য কেউ গ্রহণ করে থাকলে তা প্রশাসনিকভাবে যাচাই করা জরুরি।
একই সঙ্গে বর্তমানে পশ্চিম টেংরাটিলা জামে মসজিদে দায়িত্ব পালনরত ইমামের নামে নিয়ম অনুযায়ী সরকারি সম্মানী প্রদানের ব্যবস্থা করার দাবিও জানান তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন পশ্চিম টেংরাটিলা জামে মসজিদের সভাপতি আসক আলী, জামাল উদ্দিন, মোহাম্মদ আলী ও মসজিদের ক্যাশিয়ার আক্তার হোসেন।
বক্তারা বলেন, মসজিদের নাম ব্যবহার করে সরকারি কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হলে সেখানে স্বচ্ছতা থাকা জরুরি। কে দায়িত্বে আছেন, কে সম্মানী পাচ্ছেন এবং কীভাবে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে—এসব তথ্য মসজিদ কমিটি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কাছে পরিষ্কার থাকা উচিত।
তাদের ভাষ্য, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হলেই প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে। তাই কোনো পক্ষকে দায়ী করার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সরকারি রেকর্ড যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
অভিযোগের বিষয়ে হাফিজ উদ্দিন বলেন, আমি পশ্চিম টেংরাটিলা জামে মসজিদের নাম দিয়ে উত্তর টেংরাটিলায় পড়াই। আর প্রবাসীরা বিদেশে গিয়ে কত কথা বলে—সব কথা কানে নিলে চলবে নাকি।
তাঁর কাছে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি আর কোনো ব্যাখ্যা দেননি।