
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শাহপরান হলের প্রবেশপথে দাঁড়িয়ে থাকা এক পরিচিত মুখ মো. রেনু মিয়া। প্রজন্ম বদলেছে, বদলেছে ক্যাম্পাসের চেহারা, কিন্তু ৩৫ বছর ধরে নিরাপত্তার দায়িত্বে অবিচল থেকেছেন তিনি। নিরবচ্ছিন্ন উপস্থিতি আর আন্তরিক আচরণ দিয়ে তিনি শাহপরান হলের শিক্ষার্থীদের কাছে হয়ে উঠেছেন আপনজন।
১৯৯১ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে যোগ দেন রেনু মিয়া। শাহপরান হলের উদ্বোধনের সময় থেকেই তিনি এই প্রাঙ্গণের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন। দীর্ঘ এই পথচলায় অসংখ্য শিক্ষার্থীর আগমন-প্রস্থান দেখেছেন তিনি, প্রত্যক্ষ করেছেন ক্যাম্পাস জীবনের নানা পরিবর্তন।
রেনু মিয়ার পৈত্রিক নিবাস মৌলভীবাজার জেলার কুলাউরা উপজেলায়। চাকরির সুবাদে বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন আবাসিক এলাকায় পরিবার নিয়ে থাকেন তিনি। পরিবারে এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে তার ছোট্ট সংসার।
শিক্ষার্থীরা রেনু মিয়াকে ‘মামা’ বলেই সম্বোধন করে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিচয় থেকে শুরু করে তাদের খোঁজখবর নেওয়ায় রয়েছে তার আন্তরিকতা।
ঈদ কিংবা দীর্ঘ ছুটিতে ক্যাম্পাস ফাঁকা হয়ে যায়। অধিকাংশ শিক্ষার্থী বাড়ি ফিরে যায়। তখনও দায়িত্বে অবিচল থাকতে হয় রেনু মিয়ার মতো নিরাপত্তাকর্মীদের। নিঃশব্দ সেই সময়গুলোতেও তাদের ডিউটি থেমে থাকে না, আরও বাড়ে দায়িত্বের চাপ।
রেনু মিয়া জানান, দীর্ঘ কর্মজীবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা আন্দোলন-সংগ্রামের নীরব সাক্ষী তিনি। উত্তাল সময়গুলো খুব কাছ থেকে দেখেছেন। সবসময়ই নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন নিরলসভাবে।
রেনু মিয়া বলেন, “সাবেক শিক্ষার্থীরা এখনো ক্যাম্পাসে এলে আমার খোঁজ নেন। সবাই সম্মান করেন, মূল্যায়ন করেন এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ২০২৯ সালে অবসরে যাব। তবে ক্যাম্পাস ছেড়ে গেলেও স্মৃতিগুলো থেকে যাবে অমলিন।”
শাহপরান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী শেখ ফরিদ বলেন, “হলে ওঠার পর থেকেই রেনু মামাকে দেখে আসছি। উনি শুধু নিরাপত্তার দায়িত্বই পালন করেন না, অনেক সময় অভিভাবকের মতো আমাদের খোঁজখবরও নেন। সব ছাত্রের সঙ্গেই তার পরিচয় আছে। এত বছর ধরে সবার ভালোবাসা অর্জন করা সত্যিই বিরল।”
রেনু মিয়ার জীবনগল্প শুধু একজন নিরাপত্তাকর্মীর দায়িত্ব পালনের গল্প নয়। এটি এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে গড়ে ওঠা সম্পর্ক ও আস্থার দৃষ্টান্ত। নিজের সরলতা ও আন্তরিকতায় তিনি হয়ে উঠেছেন শাহপরান হলের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।