
দিরাই (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের রনারচর গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে সেন্টু বিশ্বাস নামের এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজি ও অপপ্রচারের অভিযোগ তোলার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। একই সাথে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে মোড় নিতে এবং আসল সত্য আড়াল করতে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সেন্টু বিশ্বাস। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি আগামীকাল থানায় লিখিত অভিযোগ (জিডি) দায়ের করবেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন আগে রনারচর গ্রামে আম পাড়াকে কেন্দ্র করে সিএইচসিপি বিশ্বজিৎ তালুকদারের পরিবারের সাথে সেন্টু বিশ্বাসের পরিবারের একটি সামান্য কথা-কাটাকাটি হয়। সেন্টু বিশ্বাসের দাবি, এই পারিবারিক ঘটনা এবং কমিউনিটি ক্লিনিকের কিছু অনিয়ম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা শুরু হলে, একটি পক্ষ ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চালায়।
এরই ধারাবাহিকতায় রনারচর কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত বিশ্বজিৎ তালুকদার সাংবাদিক সেন্টু বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ‘ষাট হাজার টাকা চাঁদাবাজি’র সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট অভিযোগ তোলেন।
সাংবাদিক সেন্টু বিশ্বাস বলেন,
”আমার বিরুদ্ধে যে চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, কাল্পনিক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এর কোনো ধরণের প্রমাণ বা সত্যতা নেই। মূলত পারিবারিক ক্ষোভ এবং প্রতিহিংসা থেকে আমার সম্মানহানি করতে এলাকায় এই মিথ্যা রটানো হচ্ছে। উল্টো এই ঘটনার পর থেকে আমাকে বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যার কারণে আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
তিনি আরও জানান, এই মিথ্যা অপপ্রচার ও তাকে দেওয়া প্রাণনাশের হুমকির সুষ্ঠু তদন্ত এবং নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে তিনি আগামীকাল স্থানীয় থানায় একটি আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন।
কমিউনিটি ক্লিনিকের অনিয়মের অভিযোগ তুলে সাংবাদিক সেন্টু আরও বলেন, “কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত বিশ্বজিৎ তালুকদার স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে নিয়মিত অফিসে আসেন না। তিনি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন এবং নিজের অনিয়ম ঢাকতেই এই মিথ্যা নাটক সাজিয়েছেন।
এদিকে সেন্টু বিশ্বাসের পক্ষের লোকজনের দাবি, কোনো প্রমাণ ছাড়াই একজন সংবাদকর্মী ও সাধারণ নাগরিকের ওপর চাঁদাবাজির মতো তকমা লাগিয়ে দেওয়া এবং তাকে হুমকি দেওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।