1. muftiabutahermisbah@gmail.com : Abu Taher : Abu Taher
  2. sylhetersangram2025@gmail.com : sylhetersangram :
চেলা নদীর বালু লুটে প্রতিবাদকারী ও শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মামলা, আড়ালে রাঘববোয়ালরা? - sylhetersangram
২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| হেমন্তকাল| বুধবার| সকাল ৮:৫২|
Title :
পত্নীতলায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা পুটিজানায় স্বামীকে জামিনে ছাড়ানোর আশ্বাস দিয়ে কুপ্রস্তাবের অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে জগন্নাথপুরে গরুর ঘাস খাওয়া নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১ আহত ৫ যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে নাসিরনগরে বর্ণাঢ্য র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহে বিশ্ব অকুপেশনাল থেরাপি দিবস পালিত মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নেই: ইউএনও শহীদুল ইসলাম সোহাগ চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিজিবির ঝটিকা অভিযান: বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ওষুধ, সিরাপ ও কীটনাশক জব্দ কুশমাইলে ভিডব্লিউবি’র চাল বিতরণে ওজনে অসংগতি, বস্তারও বেহাল দশা নওগাঁয় মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবা-গাঁজাসহ ৩ জন গ্রেপ্তার, উদ্ধার নগদ টাকা ইউপি চেয়ারম্যান থেকে এবার জাতীয় সংসদের সদস্য হতে যাচ্ছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এলিজা জামান

চেলা নদীর বালু লুটে প্রতিবাদকারী ও শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মামলা, আড়ালে রাঘববোয়ালরা?

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬,
  • 67 Time View

ডেস্ক নিউজ:

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার চেলা নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলনকে ঘিরে দায়ের করা মামলায় নিরপরাধ ব্যক্তিদের আসামী করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী চক্র স্থানীয় প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজসে নদী থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছে। মাঝেমধ্যে প্রশাসনের অভিযান পরিচালিত হলেও মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। আর এসবের খেসারত দিতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দা ও বালু খেকু চক্রের বিরোধিতাকারীদের। ফলে অভিযান আর দায়েরকৃত মামলার কার্যকারিতা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে আন্দোলনকারীরাই হচ্ছেন মামলার আসামী। প্রশাসনের কিছু কর্তকর্তাদের যোগসাজশে মূলত প্রভাবশালী বালু খেকুচক্রটি মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে স্থানীয় প্রতিবাদকারী ও নিরিহদেরকে আসামী করে মামলা দায়ের এর মাধ্যমে নিজেরা নিরাপদে থেকে বালু লুটপাটের তান্ডব চালাচ্ছে। বালু খেকু এই চক্রের ষড়যন্ত্র থেকে বাঁধ পড়ছেনা শিক্ষক,জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে সাধারণ শ্রমিকরাও। এতে প্রকৃত অপরাধীরা নিরাপদে থাকছে।

 

জানা যায়, প্রশাসনের অভিযানে মাঝে মধ্যে কয়েকটি ছোট নৌকা জব্দ এবং নিম্ন আয়ের কয়েকজন শ্রমিককে আটক করা হলেও বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

 

সর্বশেষ,গত ৬ সেপ্টেম্বর চেলা নদীর সোনাপুর – পূর্ব-সোনাপুর (মরা চেলা) নদী এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ব্যতিত বেআইনি ভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরো ১০-১৫ জনকে অঙ্গাত আসামী করে মামলা দায়ের করে পরিবেশ অধিদপ্তর। দোয়ারাবাজার থানায় মামলাটি দায়ের করেন পরিবেশ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জের সহকারী পরিচালক মো: মুহাইমিনুল হক।

পরিবেশ অধিদপ্তরের দাবি গত ৫ অক্টোবর সরেজমিনে পরিদর্শনকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে ওইদিন বেলা ১২ টায় সোনাপুর ও পূর্ব সোনাপুর এলাকা হতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রমান পাওয়ায় এই মামলাটি দায়ের করা হয়।

 

তাবে স্থানীয়দের দাবি ভিন্ন। তাদের অভিযোগ, বেশ কয়েকদিন ধরে নদীর ইজারাদারের মদদেই সোনাপুর ও পূর্ব সোনাপুর এলাকায় চেলা নদীর পাড় কেটে বালু লুটপাট করে নিচ্ছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পদবি দারি কয়েকটি কোম্পানি ও প্রভাশালী কয়েকটি সিন্ডিকেট। আর প্রশাসনের ছাতক ও দোয়ারাবাজার এর বিভিন্ন দপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সাথে যোগসাজশেই নিরাপদে এই তান্ডব চালাচ্ছে বালু খেকুরা। ফলে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো বালু লুট বন্ধে কার্যকরি কোন পদক্ষেপ নেয়নি। স্থানীয়রা বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসৃচী পালন করলেই টনক নড়ে প্রশাসনের। আর এতে অভিযানে নামে প্রশাসনের ওইসব দপ্তর। দায়ের করা হয় মামলা। কিন্তু এসব মামলায় আবার আসামী করা হয় বালুখেকু চক্রের পরামর্শেই। ফলে নিরপরাধ হয়েও বালু লুটপাটের মামলায় আসামী করা হয় প্রতিবাদকারীদের। এথেকে রেহায় পায়নি সাবেক ও বর্তমান জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে এলাকার সাধারণ বাসিন্দারাও। আর এতে করে বালু উত্তোলনের বৈধতা পেয়ে যায় মূল হোতারা । যার কারনে অনেকে ভয়ে প্রতিবাদ করতে চায়না। যারাই নিজের অস্তিত্ব রক্ষায় প্রতিবাদ করে তাদেরকে বালু লুটপাটকারী চক্র বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকিধামকি দিয়ে ভয়ভীতি দেখায়। আবার তাদের পরামর্শ ক্রমেই প্রশাসন নিরপরাধ ও প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

স্থানীয়দের দাবি,পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক দায়েরকৃত মামলায় অভিযুক্তদের কয়েকজন জড়িত থাকলেও বেশিরভাগই আবার নিরপরাধ। তাদেরকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে প্রভাবিত হওয়ার মাধ্যমেই আসামী করা হয়েছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।

 

মামলায় অভিযুক্ত সোনাপুর গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ জানান,তিনি একটি মাদ্রাসার একজন নিয়মিত শিক্ষক। স্থানীয় ইছামতী বাজারে তার একটি ফার্মেসীর ব্যবসা ও রয়েছে। শিক্ষকতার বাহিরে অতিরিক্ত সময়টুকু তিনি তার দুই সন্তানকে নিয়ে ফার্মেসীর ব্যবসায় কাজ করেন। নদীতে বালু উত্তোলনের সাথে তিনি কি’বা তার পরিবারের কারো সম্পর্ক নেই। তবুও তাকে পরিবেশ অধিদপ্তরের মামলায় আসামী করা হয়েছে।

 

জহুর মিয়া নামে একজন বলেন,পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক দায়েরকৃত মামলায় অধিকাংশ আসামীই নিরপরাধ। এখানে জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষকসক অনেককে ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে ফাঁসানো হয়েছে। নিরীহ ও নিরপরাধ মানুষদের আসামী করে প্রকৃত দোষীদেরকে নিরাপত্তার সহিত বালু উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তিনি নির্দোষ,নিরপরাধ ব্যক্তিদেরকে মামলা নামক হয়রানি থেকে মুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি এর সাথে জড়িত মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নদী থেকে উত্তোলিত বালু কয়েক কিলোমিটার দূরে বিশাল আকারের বাল্কহেড বা ডাম্পিং পয়েন্টে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। এসব স্থানে শত শত ঘনফুট বালু মজুত থাকলেও রহস্যজনক কারণে সেখানে কোনো অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে না। মূল হোতাদের নামে কোন মামলা দায়ের করা হচ্ছেনা। ফলে নিরপরাধ ও শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হলেও অবৈধভাবে মজুত করা বিপুল পরিমাণ বালু এবং এর সঙ্গে জড়িত মূল ব্যবসায়ীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে।

 

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, সোনাপুর ও পূর্ব সোনাপুর এলাকায় মরা চেলা নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন করছে

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পদ-পদবীদারি একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। এর মধ্যে কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার আওয়ামীলীগের সদস্য সৈকত আলী,মোহাম্মদ আলী ও সুজন মিয়া।

নরসিংপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সদস্য হাজ্বী স্বপন মিয়া, ফয়েজ উদ্দিন মেম্বার, ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউপি আওয়ামীলীগের যু্গ্ম সম্পাদক হাজ্বী বুলবুল আহমদ ও হাজ্বী জহির মিয়া। ছেনু মিয়া, আব্দুন নুর,লায়েক মিয়া,দেলোয়ার হোসাইন এর নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী চক্র।

 

এতে আওয়ামীলীগ নেতা বুলবুল হাজী ও জহির হাজী গ্রুপের হয়ে বালু লুটপাটে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ১নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সদস্য শাখাওয়াত হোসেন কবির,বাবুল মিয়া,শফিকুল ইসলাম, মিলন মিয়া,শাহিন মিয়া,কবির মিয়া।

হাজ্বী স্বপন মিয়া’র সিন্ডিকেট হয়ে বালু লুট করছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম (নুরু), দোয়ারাবাজার উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্মআহ্বায়ক মাহবুবুল হক শামিম,ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য ইব্রাহিম আলী ও রায়হান মিয়া,হেলাল আহমদ, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সদস্য ফয়েজ উদ্দিন মেম্বার, চাইরগাঁও গ্রামের

আব্দুন নুর,নাছিমপুর গ্রামের মত্তই মিয়া,কামাল মিয়া, সিরাজ মিয়া,সারপিন নগর গ্রামের আজিজুর রহমান, রহিমেরপাড়া গ্রামের মকসুদ রহমান।

 

সৈকত মিয়া ও মোহাম্মদ আলী সিন্ডিকেটের বশির কোম্পানির হয়ে বালু লুট করছে স্বপন মিয়া,মাসুক মিয়া,ইমরান মিয়া,দেলোয়ার হোসেইন ও কুদ্দুস মিয়া।

 

খুর্শেদ আলম ও লায়েক মিয়া গ্রুপের সাথে বালু লুটের তান্ডব চালাচ্ছে ছাতক থানায় দায়েরকৃত একটি হত্যা মামলার পলাতক আসামী ইমরান মিয়া, নিজাম উদ্দীন নিধান,ইয়াকুব আলী,জালাল মিয়া,আজাদ মিয়া।

 

ছেনু মিয়া গ্রুপের হয়ে বালু লুট করছে ইমরান মিয়া, আব্দুন নুর, মাসুক মিয়া, হিরন মিয়া, শফিক মিয়া ও মিলন মিয়া সিন্ডিকেট দিনরাতে নদীর পাড় কেটে বালু লুটপাটের তান্ডব চালাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ বালু লুটপাটের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট দপ্তর।

 

অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রদল নেতা মাহবুবুল হক শামিম জানান,আমি সবসময় এসবেে বিরোধিতা করে আসছি। আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখুন।

অন্যান্য অভিযুক্তদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি।

 

 

অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে,

প্রশাসনের অভিযানের খবর আগেই মূল হোতাদের কাছে পৌঁছে যায়। ফলে তারা নিরাপদে সরে পড়েন, আর মাঠপর্যায়ে থাকা শ্রমিকরাই ধরা পড়েন। এতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ হওয়ার পরিবর্তে কিছুদিন বিরতি দিয়ে আবারও আগের মতো কার্যক্রম শুরু হয়।

স্থানীয়দের দাবি, শুধুমাত্র শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ হবে না। যারা এই ব্যবসার অর্থায়ন, নিয়ন্ত্রণ ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে নদী থেকে উত্তোলিত বালুর ডাম্পিং পয়েন্টগুলোতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং অবৈধভাবে মজুত বালু জব্দের দাবি জানান স্থানীয়রা।

এবিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জের সহকারী পরিচালক মুহাইমিনুল হক জানান,স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সরজমিন পরিদর্শন করেই উক্ত মামলা দায়ের করা হয়েছে। এজাহারের বাহিরে থাকা বালু লুটেরাদের নাম চার্জশীটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। স্বত্ব © ২০২৬ সিলেটের সংগ্রাম