
নিজস্ব প্রতিবেদক, দিরাই:
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহাদনুর (২৬) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। গত বুধবার
(৮ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার সাদিরপুর গ্রামে এ নৃশংস ঘটনা ঘটে। নিহত আহাদনুর ওই গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে এবং পেশায় একজন দিনমজুর ছিলেন।
অভিযোগ উঠেছে, রফিনগর ইউনিয়ন পরিষদের ইউ/পি সদস্য মাসুক মেম্বার এবং হোসাইন আহমেদের প্রত্যক্ষ নির্দেশে ও নেতৃত্বে তাদের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আহাদনুর ও তার বাবার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। পরে দুই পক্ষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় আহাদনুরকে উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, হত্যার পর থেকেই মাসুক মেম্বার ও হোসাইন আহমেদসহ অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন। তবে পলাতক থাকলেও তাদের বাহিনীর অন্যতম সদস্য সুফিয়ান আহমেদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিহত আহাদনুরের শোকাতুর বাবা আব্দুল হামিদকেও হত্যার হুমকি দিয়ে বাজে মন্তব্য করে চলেছেন। এতে করে পুরো পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, দিনমজুর স্বামীকে হারিয়ে পাগলপ্রায় আহাদনুরের স্ত্রী। দুই অবুঝ সন্তানকে কোলে নিয়ে তিনি বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার স্বামী একজন সাধারণ দিনমজুর ছিলেন। কোনো অন্যায় না করেও মাসুক মেম্বার আর হোসাইনের বাহিনীর হাতে তাকে প্রাণ দিতে হলো। এখন আমি এই ছোট দুইটা বাচ্চা নিয়ে কোথায় যাব? আমি আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই, খুনিদের ফাঁসি চাই।”
নিহতের বাবা আব্দুল হামিদ বলেন, “আমার চোখের সামনে তারা আমার ছেলেকে কুপিয়ে মেরে ফেলল। এখন আবার ইন্টারনেটে আমাকেও মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।”
দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “আমরা এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ তৎপর আছে।
এদিকে, একজন নিরপরাধ দিনমজুরকে হত্যার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। দ্রুত খুনিদের গ্রেফতার করা না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয়রা।