
সাব এডিটর আবু তাহের মিসবাহ:
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষিপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের নুরুল ইসলাম রুমানের ঘরে জন্ম নেওয়া দুই ফুটফুটে সন্তানই প্রতিবন্ধী হওয়ায় চরম অসহায়ত্বে দিন কাটাচ্ছেন মা-বাবা।
জানা যায়, বড় সন্তানের বয়স ৫ বছর এবং ছোট সন্তানের বয়স মাত্র দেড় বছর। প্রথমে পুত্রসন্তান জন্মের পর থেকেই সে জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী হয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে পরিবারটি দুশ্চিন্তায় থাকলেও তিন বছর পর জন্ম নেয় আরেকটি কন্যা সন্তান, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেও জন্মগত প্রতিবন্ধী হিসেবে চিহ্নিত হয়।
জন্মের পর থেকেই দুই সন্তানকে তাদের নানী লালন-পালন করে আসছেন। মা সন্তানদের সার্বক্ষণিক দেখভোনা করলেও নানা সীমাবদ্ধতার কারণে নানীর ওপরই অনেকটা নির্ভরশীল পরিবারটি।
দুই সন্তানকে নিয়ে এখন প্রায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মা-বাবা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বাবা নুরুল ইসলাম রুমান, যিনি গার্মেন্টসে কাজ করে অল্প আয়ে কোনোভাবে সংসার চালান।
দুই সন্তানের চিকিৎসার আশায় বিভিন্ন হাসপাতাল ও মেডিকেলে দৌড়াদৌড়ি করেছেন তিনি। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকা, যা তার পক্ষে জোগাড় করা সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে সন্তানদের চিকিৎসা করানো নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন এই দম্পতি।
এলাকাবাসী জানান, পরিবারটি অত্যন্ত কষ্টে জীবনযাপন করছে এবং অনেক সময় মানবেতর অবস্থার মধ্য দিয়ে দিন পার করছে। এমন পরিস্থিতিতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী ও মানবিক সংগঠনগুলো এগিয়ে এলে হয়তো শিশু দুটির চিকিৎসা সম্ভব হতে পারে।
মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রুত সরকারি সহায়তা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।