
স্বপ্ন কেড়ে নিল দালালরা: দিরাইয়ে ৪ পাচারকারীর বিরুদ্ধে মামলা
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি ::
ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারানো সুনামগঞ্জের ১২ তরুণের মৃত্যুর ঘটনায় অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন ও নিহতের পরিবার। দালালদের প্রতারণা ও অমানবিক আচরণের বিচার চেয়ে চারজন চিহ্নিত মানব পাচারকারীর বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জের দিরাই থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত সোমবার (৩০ মার্চ) রাত ১২টার দিকে দিরাই উপজেলার বাসুরী গ্রামের নিহত সোহানুর রহমানের বাবা ছালিকুর রহমান বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ৪ জনের নাম উল্লেখসহ আরও বেশ কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
নিহতদের স্বজনদের অভিযোগ থেকে জানা যায়, দিরাই উপজেলার একটি শক্তিশালী দালাল চক্রের মাধ্যমে জনপ্রতি প্রায় ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে লিবিয়া হয়ে গ্রিস যাওয়ার চুক্তি হয়েছিল। দালালরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, তাদের নিরাপদ ও বড় নৌযানে করে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে লিবিয়া পৌঁছানোর পর তাদের একটি ছোট ও জরাজীর্ণ নৌকায় গাদাগাদি করে তুলে দেওয়া হয়। এই চরম ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রাই মূলত ২২ জন অভিবাসীর সলিল সমাধির প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাঝসমুদ্রে দীর্ঘ সময় অবস্থানকালে তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দেয়। অনাহারে ও পানিশূন্যতায় একে একে যাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা মতে, অসুস্থ হয়ে কেউ মারা গেলে পাচারকারীরা অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে তাদের মরদেহগুলো সাগরে ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
গত শনিবারের এই নৌকাডুবির ঘটনায় নিহত ১৮ বাংলাদেশির মধ্যে ১২ জনই সুনামগঞ্জের বাসিন্দা। এর মধ্যে দিরাইয়ের ৬ জন, জগন্নাথপুরের ৫ জন, দোয়ারাবাজারের ১ জন।
এই মর্মান্তিক সংবাদ এলাকায় পৌঁছানোর পর থেকেই নিহতের পরিবারগুলোতে চলছে শোকের মাতম। অভিযুক্ত দালালদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয় জনপদ।
দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিষয়টি তদন্ত করছি। মামলার প্রাথমিক পর্যায়ে এবং আসামিদের গ্রেফতারের স্বার্থে এই মুহূর্তে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তবে মানব পাচারকারী এই চক্রের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”