
সাস্ট এসপিই স্টুডেন্ট চ্যাপ্টারের আয়োজনে ‘PetroX-2026’ অনুষ্ঠিত
শাবিপ্রবি প্রতিনিধি
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাস্ট এসপিই স্টুডেন্ট চ্যাপ্টারের ১৩তম নির্বাহী কমিটির উদ্যোগে দিনব্যাপী ‘PetroX-2026’ কেস কম্পিটিশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ই-বিল্ডিংয়ের এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজকদের মতে, শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান, বিশ্লেষণধর্মী চিন্তাভাবনা, গবেষণামূলক দৃষ্টিভঙ্গি, সৃজনশীল সমস্যা সমাধান, পোস্টার ডিজাইন এবং পেশাদার উপস্থাপনা দক্ষতা বিকাশের লক্ষ্যেই এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক পর্যায়ের মোট ১৮টি দল ও ৫৩ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীরা শিল্পক্ষেত্র-অনুপ্রাণিত একটি পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ারিং কেস বিশ্লেষণ করে পোস্টারের মাধ্যমে সমাধান উপস্থাপন করেন। এবারের কেস ছিল “Design Optimum Energy Structure to Get Maximum Output with the Provided Budget”। এতে নির্ধারিত বাজেটের মধ্যে সর্বোচ্চ উৎপাদন নিশ্চিত করতে একটি সর্বোত্তম জ্বালানি কাঠামো নকশা ও তার যৌক্তিক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করতে হয়।
প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ফ্যাকাল্টি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া সাস্ট এসপিই স্টুডেন্ট চ্যাপ্টারের ১৩তম নির্বাহী কমিটির সভাপতি, সহ-সভাপতি ও সিনিয়র কার্যনির্বাহী সদস্যরা বিচার কার্যক্রমে অংশ নেন।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিভাগের ফ্যাকাল্টি সদস্যরা অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদ তুলে দেন এবং বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে পুরস্কার প্রদান করেন। প্রতিযোগিতায় লিথোফোর্জ (ওমর আব্দুল্লাহ, রায়হান মজুমদার ও ফাবিহা রাইতা) চ্যাম্পিয়ন এবং পেট্রোনোভা (নাফিসা মালিয়াত, আবরার জারিফ ও মুহাইমিনুল ইসলাম মুসা) রানার-আপ হয়। এছাড়া রায়হান মজুমদার শ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব অর্জনকারীর স্বীকৃতি পান।
পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জাকির জাকারিয়া বলেন, “এটি ছিল সাস্ট এসপিই স্টুডেন্ট চ্যাপ্টারের একটি সাহসী উদ্যোগ। এই প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য চ্যাম্পিয়ন বা রানার-আপ নির্বাচন করা নয়; বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে চিন্তাশক্তি, সমস্যা বিশ্লেষণের সক্ষমতা এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করা। এমন উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পেশাগত জীবনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, “এই প্রোগ্রামটি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় সুযোগ ছিল, যার মাধ্যমে তারা নতুনভাবে চিন্তা করতে এবং নিজেদের দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পেয়েছে।” তিনি জানান, ভবিষ্যতেও বিভাগে এ ধরনের শিক্ষামূলক ও দক্ষতাভিত্তিক আয়োজন অব্যাহত থাকবে।