
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সামান্য কাজ দেখিয়ে প্রকল্পের বরাদ্দ কয়েকগুণ বাড়ানো হচ্ছে এবং এর বড় একটি অংশ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রভাবশালীদের পকেটে চলে যাচ্ছে।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন দিরাই পানি উন্নয়ন বোর্ডে কর্মরত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, মাত্র ১ লক্ষ টাকার প্রকল্প কীভাবে কাগজে-কলমে ৩ লক্ষ টাকায় রূপ নেয় এবং সেই প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নিজেই কীভাবে অঘোষিত অংশীদার হন—তার বাস্তব উদাহরণ দিরাই উপজেলায় একাধিক পিআইসি প্রকল্প।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যে পিআইসি প্রকল্পে গত বছর বরাদ্দ ছিল ১৪ লক্ষ টাকা, সেই একই প্রকল্পে চলতি বছরে বরাদ্দ দেখানো হয়েছে প্রায় ২৯ লাখ ৬৭ হাজার ৪১৩ টাকা ৪২ পয়সা। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। মাঠপর্যায়ে দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রকল্পের কাজ হয়েছে প্রায় ৬০ শতাংশ কম।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অধিকাংশ জায়গায় আরসিসি ঢালাই কাজ দেখানো হলেও বাস্তবে সেই কাজের মান ও পরিমাণ নিয়ে রয়েছে গুরুতর প্রশ্ন। অনেক স্থানে আগের কাজের ওপর সামান্য সংস্কার দেখিয়ে নতুন করে বড় অঙ্কের বিল উত্তোলন করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, বিশেষ করে ‘আলিপুরের কাল’ নামে পরিচিত এলাকায় মাত্র ৩ শ’ত মিটার রাস্তার কাজে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেখানো হয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
চরনারচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল জলিল বলেন, “এখানে এত টাকার কাজ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কাগজে যা দেখানো হয়েছে, বাস্তবে তার অর্ধেকও হয়নি।” স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম একজন পরিচিত আওয়ামী লীগের সহযোগী হিসেবে পরিচিত, যার প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এসব অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন।
উল্লেখ প্রত্যেক জেলায়, উপজেলায় কর্মরত থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ ছিল বলে স্থানীয়দের দাবি।
রহস্যজনকভাবে গোপন পিআইসি কমিটি আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো—জেলার অন্যান্য উপজেলার পিআইসি কমিটির তালিকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ করা হলেও দিরাই উপজেলা পিআইসি কমিটির তালিকা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এতে করে কমিটির গঠন, সদস্যদের নাম ও দায়িত্ব নিয়ে জনমনে ব্যাপক সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের ধারণা, এই গোপনীয়তার পেছনে বড় ধরনের অনিয়ম লুকিয়ে থাকতে পারে। সাংবাদিক ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ দিরাই উপজেলার সচেতন নাগরিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করার জন্য প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। একই সঙ্গে উপজেলার সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে—দিনের বেলায় সংঘটিত এই ‘প্রকাশ্য লুটপাটে’ কারা জড়িত, তা অনুসন্ধান করে জাতির সামনে তুলে ধরার জন্য।
৪ নং চরনারচর ইউনিয়নের একাধিক বাসিন্দা বলেন, “এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে এখনই রুখে দাঁড়ানো না গেলে ভবিষ্যতে এলাকার উন্নয়ন পুরোপুরি মুখ থুবড়ে পড়বে।” এ বিষয়ে অভিযুক্ত দিরাই উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মরত অফিসার ( এসও) আব্দুল কাইয়ুম বলেন, আমি চনারচর ইউনিয়নের বিষয়টি দেখতেছি। আমাদের কিছুটা ভুল হয়েছিলো, সার্ভে পাঠিয়ে টিক করে দিব।