
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি ::
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে কর্মরত সজীব ভৌমিককে ঘিরে সম্প্রতি স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনা দেখা দিয়েছে। চরনারচর ইউনিয়নের লোল্লারচর গ্রামের বাসিন্দা সজীব ভৌমিকের অতীত রাজনৈতিক পরিচিতি, ফেসবুক কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে তার আচরণ নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে বলে দাবি করেছে স্থানীয় মানুষজন । এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা সরকারি মন্তব্য পাওয়া না গেলেও বিষয়টি দিরাইয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
জানা যায়, সজীব ভৌমিক সিলেটের এমসি কলেজে পড়াশোনা করেছেন। কলেজ জীবনে তিনি ছাত্র রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন বলে স্থানীয়দের দাবি। সে সময় সিলেট অঞ্চলের ছাত্রলীগের সংগঠনের কয়েকজন নেতার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ও কর্মসূচিতে তাকে অংশ নিতে দেখা যায় । সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও তার ব্যক্তিগত প্রোফাইলে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সাথে তোলা বেশ কিছু ছবি এখনো রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এসব ছবি থেকে তার আগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের আভাস পাওয়া গেছে। তিনি পতিত আওয়ামী সরকারের একজন দূসর হিসেবে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পরিচিতি ও সম্পর্কের সুবাদে প্রশাসনিক দপ্তরে চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে তিনি সুবিধা পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে ব্যক্তিগত সুবিধার্থে তিনি সুনামগঞ্জ জেলা থেকে বদলি হয়ে দিরাই উপজেলায় যোগদান করেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, দিরাই তার নিজ এলাকা হওয়ায় এখানে এসে তিনি আরো প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন।
সজীব ভৌমিকের বিরুদ্ধে ইউএনও অফিসে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার, অফিসের অন্যান্য কর্মচারীদের ওপর কর্তৃত্বমূলক আচরণ এবং সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করার অভিযোগও শোনা যায়। কিছু স্থানীয় ব্যক্তি দাবি করেন, অফিসের বরাদ্দকৃত কিছু সামগ্রী তার ব্যক্তিগত ব্যবহারে রয়েছে বলে তারা ধারণা করেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক নথি বা সরকারি নিশ্চিতকরণ এখনো প্রকাশিত হয়নি।
একজন স্থানীয় সামাজিক কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“সরকারি অফিস জনগণের সেবা দেওয়ার স্থান। যদি কেউ রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে বা পরিচিতির জোরে ক্ষমতাধর হয়ে ওঠে, তাহলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি ও অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। তাই বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে তদন্ত হওয়া জরুরি।” অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে জনস্বাস্থ্য অফিসের পারিবারিক কয়েকটি পাবলিক শৌচাগার বরাদ্দ আসলে সজীব ভৌমিক নিজের প্রভাব খাটিয়ে একটি শৌচাগার তার ভাই সাবেক ইউপি সদস্যের নাম দিয়ে নিজের বাড়ীতে নির্মাণ করেন। এই পাবলিক শৌচাগার মানুষজনের জন্য সরকার বরাদ্দ দিলেও তা তিনি ও তার পরিবার একক ভাবে ব্যবহার করছেন। সজীব ভৌমিকের পাশের ঘরের এক মহিলা জানান, প্রথমে বলছে আমাদের সবার জন্য এ ল্যাটিন। আমরা সবাই ব্যবহার করবো। এখন তারা একলা, একলা, ব্যবহার করে। আমরা এ ল্যাটিন এ গেলে সজিবের মা,ও ভাই গালিগালাজ করে।
এদিকে কিছু স্থানীয় যুবক দাবি করেন, সজীব ভৌমিককে কেন্দ্র করে এখনো এলাকায় একটি নীরব অনুসারী নেটওয়ার্ক রয়েছে যারা নানা বিষয়ে তার নির্দেশনা অনুসরণ করে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ উপজেলা প্রশাসনের কাছে কেউ দেননি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান,
“যে কোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য তথ্য, সাক্ষ্য এবং লিখিত আবেদন প্রয়োজন। কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তা সত্য প্রমাণিত হয় না। সুনিশ্চিত প্রমাণ মিললে প্রশাসন অবশ্যই তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করবে।”
অন্যদিকে সজীব ভৌমিকের ব্যক্তিগত মতামত জানতে তার সাথে ফোন এবং মেসেঞ্জারের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের মত, প্রশাসনিক কর্মকর্তা যেই হোন না কেন, তার আচরণ, কর্মপদ্ধতি এবং জনসেবার নৈতিক মানদণ্ড স্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য হওয়া জরুরি। যদি অভিযোগগুলো সত্য হয়, তবে তা সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে পারে। আর যদি অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন হয়, তবে তার সম্মান ও পেশাগত অবস্থান রক্ষার্থে বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
সমাজের স্বচ্ছতা ও প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অনেকেই বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।
এব্যাপারে দিরাই উপজেলার নির্বাহী অফিসার সানজীব সরকার কে একাধিক মুঠোফোন এ কল করলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি।