
নিজস্ব প্রতিবেদক :
যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে যুবদলের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্য যুবদলের আওতাধীন ম্যানচেস্টার সিটি যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আ ন ম আজমুল হক সুমনকে দায়িত্ব দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ।
তাদের অভিযোগ, আ ন ম আজমুল হক সুমন দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সক্রিয় কর্মকাণ্ড থেকে দূরে ছিলেন। গত দেড় দশকেরও বেশি সময়ে বিএনপি ও যুবদলের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম এবং সাংগঠনিক কর্মসূচিতে তার দৃশ্যমান অংশগ্রহণ ছিল না বলেও দাবি করেন তারা।
বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দাবিতে পরিচালিত আন্দোলনেও সুমনের উল্লেখযোগ্য কোনো অংশগ্রহণ তারা দেখেননি বলে দাবি করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীদের কেউ কেউ। এ অবস্থায় তাকে ম্যানচেস্টার সিটি যুবদলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব দেওয়ায় তারা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
নেতাকর্মীরা জানান, এর আগে বৃহত্তর ম্যানচেস্টার এলাকায় যুবদলের একটি কমিটি কার্যকর ছিল। বর্তমানে বৃহত্তর ম্যানচেস্টারকে বিভক্ত করে ম্যানচেস্টার সিটি যুবদলসহ পৃথক ইউনিটের কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন কমিটিতে আ ন ম আজমুল হক সুমনকে সাধারণ সম্পাদক করার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করেই মূলত বর্তমান অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে বলে তাদের দাবি।
স্থানীয় যুবদলের নেতাকর্মীদের একাংশের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে যারা বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে ছিলেন এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন, তাদের মধ্য থেকে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হলে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বেশি গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হতে পারত।
তারা ম্যানচেস্টার সিটি যুবদলের কমিটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় এবং সাংগঠনিকভাবে দীর্ঘদিনের কর্মীদের সমন্বয়ে নতুন নেতৃত্ব গঠনের আহ্বান জানিয়ে আ ন ম আজমুল হক সুমনকে সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে প্রত্যাহারের দাবিও তুলেছেন তারা।
তবে নেতাকর্মীদের এসব অভিযোগ ও দাবির বিষয়ে আ ন ম আজমুল হক সুমনের বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে। পাশাপাশি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সাংগঠনিক কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও জানা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।