
জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা পেলেন শাবিপ্রবি অধ্যাপক আশ্রাফুল করিম
শাবিপ্রবি প্রতিনিধি
হবিগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে শিল্প-সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা’ পেলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্বাবদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আশ্রাফুল করিম।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) হবিগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। জেলা শিল্পকলা একাডেমি, হবিগঞ্জ আয়োজিত এ আয়োজনে শিল্প-সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ২৯ জন গুণী শিল্পী ও ১টি সৃজনশীল সংগঠনকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ্ব মো. জি কে গউছ, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদ, হবিগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহান আরা খাতুন এবং জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) হবিগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক মিজানুর রহমান চৌধুরী।
সম্মাননাপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. মো. আশ্রাফুল করিম একাধারে শিক্ষক, গবেষক, লেখক, সংস্কৃতিবান ও সফল নাট্যকর্মী। তিনি বর্তমানে শাবিপ্রবির বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত এবং ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত উক্ত বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি শাবিপ্রবি বিএনসিসি প্লাটুনের প্রতিষ্ঠাতা প্লাটুন কমান্ডার। গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক মেজর পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত এই শিক্ষকের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে ৪২টি গবেষণা প্রবন্ধ এবং ১১টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। সুনামগঞ্জের লোকসংস্কৃতি, চা শ্রমিকদের কৃত্য-নৃত্য ও ভাষা এবং মাজার সংস্কৃতির ওপর তাঁর মৌলিক গবেষণা ফোকলোর চর্চায় বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে অধ্যাপক আশ্রাফুল করিম বলেন, “শিল্প-সংস্কৃতি মানুষের মানবিক বোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকে জাগ্রত রাখে। যেকোনো স্বীকৃতিই আনন্দের, তবে নিজ ভূমির মাটি ও মানুষের কাছ থেকে পাওয়া সম্মাননার অনুভূতি অন্যরকম। জেলা শিল্পকলা একাডেমি আমাকে যে সম্মাননায় ভূষিত করেছে, তার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমি সবসময় বিশ্বাস করি, গুণিজনদের কদর করলে সমাজে আরও নতুন নতুন গুণী মানুষের সৃষ্টি হবে। আমাদের শেকড়, ফোকলোর ও সমৃদ্ধ লোকসংস্কৃতিকে তরুণ প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। এই স্বীকৃতি আমার সেই গবেষণার কাজ ও সংস্কৃতির চর্চাকে আরও বহু দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে।”