
নিজস্ব প্রতিবেদক :
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ৭নং জগদল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী রুবেল আহমেদ। ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামের মরহুম মোহাম্মদ আলীর বড় ছেলে রুবেল আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে বসবাস করলেও এলাকার মানুষের সঙ্গে তার যোগাযোগ ও সামাজিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে।
ছোটবেলা থেকেই এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং জনকল্যাণে কাজ করার স্বপ্ন লালন করে আসছেন বলে জানান রুবেল আহমেদ। প্রবাসে থেকেও তিনি বিভিন্ন সময়ে ইউনিয়নের মানুষের সুখ-দুঃখের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
জানা যায়, যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বসবাস করলেও এলাকার মানুষের টানে বছরে একাধিকবার দেশে আসেন রুবেল আহমেদ। দেশে অবস্থানকালে তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, তাদের সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা শোনেন এবং স্থানীয় উন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় করেন। প্রবাসে অবস্থান করেও নিয়মিতভাবে এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন তিনি।
এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ৭নং জগদল ইউনিয়নে রুবেল আহমেদের নাম বেশ জোরেশোরে আলোচিত হচ্ছে। দীর্ঘদিনের সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং মানুষের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগের কারণে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে তিনি ইতোমধ্যে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন।
লন্ডন থেকে দেশে ফিরেই ব্যাপক সংবর্ধনা
চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে গত ১২ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেন রুবেল আহমেদ। তার দেশে ফেরার খবর ছড়িয়ে পড়লে ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল থেকেই জগদল ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী, আত্মীয়-স্বজন ও সমর্থকেরা তাকে স্বাগত জানাতে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত হতে থাকেন।
দুপুর ১২টার দিকে বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ দিয়ে বের হলে উপস্থিত নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় বিমানবন্দর এলাকায় এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
পরে বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে রুবেল আহমেদ জিন্দাবাজারের একটি রেস্টুরেন্টে নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সেখানেও বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষী তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
মতবিনিময় সভায় রুবেল আহমেদ বলেন, “নেতা তো অনেকেই হয়েছেন, কিন্তু সেবক হয়েছেন খুব কম মানুষ। আমি নেতা হতে নয়, ৭নং জগদল ইউনিয়নবাসীর সেবক হতে এসেছি।”
তিনি বলেন, “আপনারা আজ যেভাবে আমাকে ভালোবাসা দিয়েছেন, যেভাবে বিমানবন্দরে এসে আমাকে স্বাগত জানিয়েছেন, আমি আপনাদের এই ভালোবাসাকে হৃদয়ে ধারণ করে ইউনিয়নবাসীর জন্য কাজ করতে চাই। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আপনারা যদি আমাকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত করেন, তাহলে আমি একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, আপনাদের একজন সেবক হিসেবে কাজ করার চেষ্টা করব।”
তিনি আরও বলেন, ইউনিয়নের মানুষের মতামত ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে চান। মানুষের সমস্যা সরাসরি শুনে তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া এবং ইউনিয়নকে একটি পরিকল্পিত ও উন্নত ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলাই তার লক্ষ্য।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনেকেই রুবেল আহমেদের দীর্ঘদিনের সামাজিক কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, রুবেল আহমেদ প্রবাসে থেকেও বিভিন্নভাবে এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন এবং মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন।
তাদের বক্তব্য, রুবেল আহমেদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে জনগণের সঙ্গে তার যোগাযোগ ও সেবামূলক কর্মকাণ্ড আরও সহজ ও কার্যকর হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
রুবেল আহমেদের দেশে ফেরাকে ঘিরে জগদল ইউনিয়নের বিভিন্ন মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তার আগমনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি এবং উচ্ছ্বাসকে সামনে রেখে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা হিসাব-নিকাশও শুরু হয়েছে।
স্থানীয়দের কেউ কেউ মনে করছেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে রুবেল আহমেদ বড় ধরনের চমক দেখাতে পারেন। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের মাঠে তার অবস্থান কতটা শক্তিশালী হয় এবং ভোটারদের সমর্থন কতটা অর্জন করতে পারেন—তা নির্ভর করবে নির্বাচনী প্রচারণা ও ভোটারদের সিদ্ধান্তের ওপর।
তবে স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, শুধু নির্বাচনী চমক নয়, চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে রুবেল আহমেদের। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচনের মাঠে তার এই জনপ্রিয়তা ও জনসম্পৃক্ততা শেষ পর্যন্ত ভোটের হিসাবে কতটা প্রতিফলিত হয়।