
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট|
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. সোলেমান মিয়ার বিরুদ্ধে আনীত সাম্প্রতিক অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। অনুসন্ধানে জানা গেছে, শিক্ষা অফিসের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ায় একটি স্বার্থান্বেষী মহল সুপরিকল্পিতভাবে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বালিজুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা লুতফা আক্তার মূলত ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে এই অভিযোগ তুলেছেন। মেধা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রশিক্ষণের তালিকা প্রণয়ন করায় এবং অনৈতিক সুবিধা না পাওয়ায় তিনি এই ‘প্রতিশোধের’ পথ বেছে নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ম্যাসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার স্বপক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ মেলেনি।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, লুৎফা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ও প্রতারণার মাধ্যমে সুবিধা হাসিলের চেষ্টা করে আসছেন। ইতিপূর্বে তিনি চারটি বিবাহ করলেও কোনো সংসারই টেকেনি। এমনকি উগ্র আচরণের কারণে তার পরিবারের সদস্যরাও তাকে ত্যাজ্য করেছেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি শক্তিয়ারখলা বাজারে ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। বালিজুরী স্কুলের শিক্ষক ও অভিভাবকদের অভিযোগ, তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না এবং তার বিরুদ্ধে আগেও একাধিকবার শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি একটি অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়েছে, যেখানে লুৎফা আক্তারকে জনৈক সাংবাদিককে অর্থ দিয়ে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের প্ররোচনা দিতে শোনা যায়। একই সঙ্গে শিক্ষা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করার হুমকিও প্রদান করা হয়েছে। সোলেমান মিয়া জানান, লুৎফা আক্তার কেবল তাকেই নয়, বরং তার স্ত্রীর কাছে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর ছবি ও অশালীন বার্তা পাঠিয়ে তাদের দাম্পত্য কলহ সৃষ্টির অপচেষ্টাও চালাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন।
তাহিরপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. সোলেমান মিয়া বলেন,“আমি সততার সাথে দায়িত্ব পালন করায় একটি বিশেষ চক্র সুবিধা বঞ্চিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছে। আমি আইনিভাবে এটি মোকাবিলা করতে প্রস্তুত এবং সত্য উদ্ঘাটনের জন্য সুষ্ঠু তদন্ত কামনা করছি।”
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান মানিক জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্তাধীন। তবে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মনে হচ্ছে, কোনো পক্ষ স্বার্থ হাসিলের জন্য কর্মকর্তাকে চাপে ফেলার চেষ্টা করছে। যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় শিক্ষকদের মতে, সোলেমান মিয়ার মতো দক্ষ কর্মকর্তাকে সরিয়ে দিতে পারলেই একটি চক্র অনিয়ম করার সুযোগ পাবে। আর সেই লক্ষ্যেই লুৎফা আক্তারকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।