1. sylhetersangram2025@gmail.com : sylhetersangram :
দিরাইয়ে চাঁদা তুলে মরণফাঁদ মেরামতে চালকরাই - sylhetersangram
৩১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ১৬ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| বর্ষাকাল| শুক্রবার| রাত ১০:১৪|
Title :
এক যুগ পূর্তি উদযাপন করল পুসাব, উদ্বোধন হলো অফিসিয়াল ওয়েবসাইট রাজনগরে স্কুলছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলার আসামি র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার শাবিপ্রবিতে নেত্রবাঁধন ফুটবল চ্যাম্পিয়নস লীগ-২০২৬ অনুষ্ঠিত দিরাইয়ে মহিলাকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগ ‎লক্ষিপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশী ফরাস উদ্দিন ‎ সফলভাবে সম্পন্ন হলো রোটারেক্ট ক্লাব অব সিলেট এলিগ্যান্সের ‘এলিভেট-২০২৬’ দিরাইয়ে লোকসংগীত ও লোকনৃত্য একাডেমির ২য় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন সংবাদকর্মীকে নিয়ে ফেসবুকে কুরুচিপূর্ণ প্রচারের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি উত্তর বড়বন্দের গর্ব: ফিনল্যান্ডে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেলেন মেধাবী শিক্ষার্থী আবু হানিফ স্বপন। কুলাউড়ায় র‍্যাবের অভি’যানে অনলাইন জু’য়া খেলার অপ’রা’ধে আ’ট’ক-৪

দিরাইয়ে চাঁদা তুলে মরণফাঁদ মেরামতে চালকরাই

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, জুন ১৫, ২০২৬,
  • 113 Time View

​দিরাই (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

 

 

পৌর কর্তৃপক্ষের দীর্ঘদিনের উদাসীনতা আর অবহেলাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অনন্য এক মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন দিরাই পৌরসভার রিকশাচালকরা। দিরাই পৌরসভা হাসপাতালের সামনের অত্যন্ত জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ বাইপাস সড়কটির ভাঙা অংশ নিজেদের পকেটের টাকায় চাঁদা তুলে মেরামত করলেন তারা।

 

​দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের মতো একটি জরুরি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সামনের এই বাইপাস রাস্তার মুখটি ভেঙেচুরে একাকার হয়ে ছিল। তার ওপর রাস্তার ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে দুটি বিদ্যুতের খুঁটি, যা দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা পথচারী ও যানবাহন চলাচলের জন্য এক চরম ‘মরণফাঁদ’ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

 

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই ভাঙা রাস্তা আর বিদ্যুতের খুঁটির কারণে প্রতিদিন এখানে রিকশা ও রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স উল্টে গিয়ে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছিল। হাসপাতালের সামনে প্রতিনিয়ত এই আর্তনাদ আর মানুষের দুর্ভোগ দিরাই পৌর কর্তৃপক্ষের চোখে না পড়লেও, এড়াতে পারেনি সাধারণ রিকশাচালকদের চোখ ও বিবেক।

​আজ সন্ধায় দেখা যায়, একদল রিকশাচালক চালক নিজেরাই কোদাল, টুকরি আর মেরামতের সামগ্রী নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েছেন। নিজেদের কষ্টের উপার্জিত টাকা থেকে চাঁদা তুলে তারা ইটের খোয়া ও বালু কিনে মরণফাঁদ সদৃশ এই রাস্তাটি মেরামতের কাজ শুরু করেন।

​কাজে অংশ নেওয়া এক রিকশাচালক ক্ষোভ ও আক্ষেপের সাথে বলেন:

“আমরা গরিব মানুষ, দিন আনি দিন খাই। কিন্তু প্রতিদিন চোখের সামনে রোগী আর সাধারণ মানুষের রিকশা উল্টাইয়া পইড়া হাত-পা ভাঙতে দেইখা সহ্য করতে পারি নাই। পৌরসভা বা কারোর দেহনোর সময় নাই, তাই আমরা নিজেরাই চাইল-ডালের টাকা থাইকা চাঁদা জমাইয়া এই রাস্তা ঠিক করতে নামছি।”

 

​এই ঘটনার পর স্থানীয় জনগণের মাঝে যেমন রিকশাচালকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা বাড়ছে, তেমনি পৌর কর্তৃপক্ষের ওপর তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন— নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যাদের, তারা কেন বছরের পর বছর এই দৃশ্য দেখেও অন্ধ সেজে আছেন? যেখানে সাধারণ রিকশাচালকরা নিজেদের পকেটের টাকা দিয়ে রাস্তা সংস্কার করতে পারেন, সেখানে কোটি কোটি টাকার বাজেট থাকা সত্ত্বেও পৌর কর্তৃপক্ষ কেন নীরব?

​রিকশাচালকদের এই উদ্যোগ দিরাইয়ে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করলেও, তা স্থানীয় প্রশাসনের জন্য এক বিশাল লজ্জার চড় চপেটাঘাত বলে মনে করছেন সচেতন মহল। স্থানীয়রা অবিলম্বে এই রাস্তায় থাকা বিপজ্জনক বিদ্যুতের খুঁটি দুটি অপসারণ এবং সড়কটি স্থায়ীভাবে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। স্বত্ব © ২০২৬ সিলেটের সংগ্রাম