
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের স্বজনপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলা পিয়াইন নদী এখন গ্রামবাসীর জন্য এক আতঙ্কের নাম। নদীর ওপর কোনো স্থায়ী সেতু না থাকায় কয়েক হাজার মানুষের ভরসা এখন একটি জরাজীর্ণ নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো।
সরেজমিনে দেখা যায়, পিয়াইন নদীর ওপর নির্মিত এই সাঁকোটির অবস্থা এখন অত্যন্ত করুণ। জরাজীর্ণ বাঁশগুলো পচে গেছে, অনেক জায়গায় খুঁটি আলগা হয়ে হেলে পড়েছে। বিশেষ করে বৈশাখ মাসে, যখন হাওরের ধান কাটার ভরা মৌসুম চলে, তখন এই নড়বড়ে সাঁকো দিয়েই জীবন বাজি রেখে পারাপার হতে হয় কৃষকসহ সাধারণ মানুষকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তারা এখানে একটি স্থায়ী ব্রিজের দাবি জানিয়ে আসলেও কোনো সুরাহা মেলেনি। বর্তমানে সাঁকোটির যা অবস্থা, তাতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কৃষক ও শ্রমিক: বৈশাখী মৌসুমে ধান নিয়ে নদী পার হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
শিক্ষার্থী: স্কুল-কলেজে পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীরা প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে এই নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করছে। অনেক সময় পা পিছলে বই-খাতা নিয়ে নদীতে পড়ার ঘটনাও ঘটছে।
রোগী: জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে কোনো রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার কোনো উপায় নেই।
গ্রামবাসীর ভাষ্
স্বজনপুর গ্রামের বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নির্বাচন এলে সবাই আশার বাণী শোনায়, কিন্তু আমাদের এই পিয়াইন নদীর কষ্ট কেউ বুঝে না। এই বৈশাখ মাসেও আমাদের সেই পুরনো ভাঙা সাঁকোতেই ভরসা করতে হচ্ছে। এখন তো সাঁকোটির ওপর দিয়ে হাঁটাই দা
য় হয়ে পড়েছে।”