
রাজনগরে স্কুলছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলার আসামি র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার
স্টাফ রিপোর্টার | আলী আহমদ রিপন, মৌলভীবাজার
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলা কাশিমপুরে এক নাবালক স্কুলছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হুমায়ুন মিয়া (২০)-কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাবের একটি চৌকস টিম। সোমবার সন্ধ্যায় রাজনগর থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে রাজনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জুলাই ২০২৬ সকাল আনুমানিক ৮টা ৪০ মিনিটে রাজনগর উপজেলার ১নং ফতেপুর ইউনিয়নের কাশিমপুর গ্রামের কাউসার মিয়ার ফিশারিতে কর্মরত হুমায়ুন মিয়ার বিরুদ্ধে একই এলাকার এক চতুর্থ শ্রেণির নাবালক স্কুলছাত্রকে ফিশারির একটি কক্ষে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শিশুটির চিৎকার শুনে তার মা ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে অভিযুক্ত দ্রুত পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর স্থানীয় ফিশারির মালিক কাউসার মিয়া বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরিবারের দাবি, আহত শিশুটিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরিবর্তে ঘটনাটি গোপন রাখার চেষ্টা করা হয়।
পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে খবর পেয়ে রাত প্রায় ৮টার দিকে স্থানীয় সংবাদকর্মী আলী আহমদ রিপনের উদ্যোগ ও সহযোগিতায় শিশুটিকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়। পরে ভুক্তভোগী শিশুটির মা বাদী হয়ে রাজনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাই শেষে পুলিশ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে।
মামলা দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্ত আত্মগোপনে চলে যায়। পরবর্তীতে রাজনগর উপজেলা প্রশাসন এবং রাজনগর থানার অফিসার ইনচার্জের সার্বিক সহযোগিতায় র্যাবের একটি চৌকস টিম গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে সোমবার সন্ধ্যায় মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হুমায়ুন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। পরে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে রাজনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
এ ঘটনায় রাজনগরসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল শিশু নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধে জড়িতদের দ্রুত বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, মামলার তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে দোষী প্রমাণিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এব্যাপারে রাজনগর থানার অফিসার ইনচার্জ ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ভূইয়া সতর্ক করে বলেন,এই ধরনের শিশু নির্যাতনকারী ও এর পক্ষে সুপারিশ কারীকে কিছুতেই ছাড় দেয়া হবেনা।